ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ, মূল বিচার শুরু আগামী ১ জুন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 78

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আগামী ১ জুন অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। রবিবার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে, আজ রবিবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া মূল ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে মামলাটি দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে বদলির আদেশ দেন।

মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের রুমের ভেতরে ডেকে নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীর রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে তিনি ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ভেতরের একটি বড় বালতিতে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান তারা।

আরও পড়ুন  সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

নৃশংস এই ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বুধবার ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের পর গত ২০ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে এই ঘাতক জানায়, অপরাধ সংঘটনের পূর্বে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না তাকে ঘরের ভেতর নিয়ে আসে। এরপর সোহেল তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করলে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরই মধ্যে রামিসার মা বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করলে ধরা পড়ার ভয়ে সোহেল ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ড আড়াল ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে দেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। জবানবন্দিতে সোহেল স্পষ্ট জানায়, পুরো ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই রুমে উপস্থিত ছিল এবং ঘটনার পর সোহেল নিজেই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। ঘাতক আদালতকে আরও জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্বে তাদের কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক শত্রুতা ছিল না।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ, মূল বিচার শুরু আগামী ১ জুন

আপডেট সময় ০৫:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আগামী ১ জুন অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। রবিবার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে, আজ রবিবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া মূল ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে মামলাটি দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে বদলির আদেশ দেন।

মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের রুমের ভেতরে ডেকে নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীর রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে তিনি ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ভেতরের একটি বড় বালতিতে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান তারা।

আরও পড়ুন  সাজিদ হত্যার ইস্যুতে আজই মামলা, সন্ধ্যায় জরুরি সিন্ডিকেট; ইবি উপাচার্য

নৃশংস এই ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বুধবার ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের পর গত ২০ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে এই ঘাতক জানায়, অপরাধ সংঘটনের পূর্বে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না তাকে ঘরের ভেতর নিয়ে আসে। এরপর সোহেল তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করলে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরই মধ্যে রামিসার মা বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করলে ধরা পড়ার ভয়ে সোহেল ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ড আড়াল ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে দেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। জবানবন্দিতে সোহেল স্পষ্ট জানায়, পুরো ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই রুমে উপস্থিত ছিল এবং ঘটনার পর সোহেল নিজেই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। ঘাতক আদালতকে আরও জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্বে তাদের কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক শত্রুতা ছিল না।