ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ

ঈশ্বরদীতে ছাগলে সজনে পাতা খাওয়া নিয়ে বিরোধ, পিটিয়ে বৃদ্ধকে হত্যা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 65

ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় একটি ছাগলে সজনে গাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে প্রতিবেশীদের লাঠির আঘাতে মো. মাহাবুল হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সাহাপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মাহাবুল হোসেন ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত আজু প্রামাণিকের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে মাহাবুল হোসেনের একটি ছাগল প্রতিবেশী মো. বাশার মুন্সি ও তাঁর বড় ভাই মো. তোসলিম মুন্সির সজনে গাছের পাতা খেয়ে ফেলে। এই তুচ্ছ ঘটনাটি নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

আরও পড়ুন  ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা; আটক ১

একপর্যায়ে এই বিরোধ চরম রূপ নেয় এবং দুই পক্ষই মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষের সময় বাশার মুন্সি ও তোসলিম মুন্সি লিচু পাড়ার কোটা (বাঁশ বা কাঠের লম্বা লাঠি) এবং বাঁশের বাতা দিয়ে মাহাবুলের ঘাড়, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের স্বজনরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে মাহাবুলের মৃত্যু হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের পর সাহাপুর পূর্বপাড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত মো. বাশার মুন্সিকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে অপর পলাতক আসামি তোসলিম মুন্সিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেখানকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈশ্বরদীতে ছাগলে সজনে পাতা খাওয়া নিয়ে বিরোধ, পিটিয়ে বৃদ্ধকে হত্যা

আপডেট সময় ০৪:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় একটি ছাগলে সজনে গাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে প্রতিবেশীদের লাঠির আঘাতে মো. মাহাবুল হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সাহাপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মাহাবুল হোসেন ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত আজু প্রামাণিকের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে মাহাবুল হোসেনের একটি ছাগল প্রতিবেশী মো. বাশার মুন্সি ও তাঁর বড় ভাই মো. তোসলিম মুন্সির সজনে গাছের পাতা খেয়ে ফেলে। এই তুচ্ছ ঘটনাটি নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

আরও পড়ুন  ময়মনসিংহে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাকে কুপিয়ে হত্যা

একপর্যায়ে এই বিরোধ চরম রূপ নেয় এবং দুই পক্ষই মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষের সময় বাশার মুন্সি ও তোসলিম মুন্সি লিচু পাড়ার কোটা (বাঁশ বা কাঠের লম্বা লাঠি) এবং বাঁশের বাতা দিয়ে মাহাবুলের ঘাড়, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের স্বজনরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে মাহাবুলের মৃত্যু হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের পর সাহাপুর পূর্বপাড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত মো. বাশার মুন্সিকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে অপর পলাতক আসামি তোসলিম মুন্সিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেখানকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।