ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
বিরোধী দল ‘লংমার্চে’র নামে গণতন্ত্র বিনষ্টের পায়তারা করেছে: রিজভী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের থাকার ভবন ধসে পড়েছে, চলছে উদ্ধার অভিযান বিদেশ ভ্রমণে বৈদেশিক মুদ্রার সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পেপারবিহীন, আধুনিক সংসদ প্রতিষ্ঠায় ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ইরানের ঢাকার নদী দূষণমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আলাদা পে-স্কেলের চিন্তা শিক্ষকদের জন্য: শিক্ষামন্ত্রী মিলন দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি সদস্য দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হাইব্রিড কর্মকাণ্ডে কঠোর বার্তা ন্যাটোর

বিদ্যুতের ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 96

ছবি: সংগৃহীত

দেশে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ২১ শতাংশ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। একই সঙ্গে গ্রাহক বা আবাসিক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৪৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) সকালে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

গণশুনানিটির আয়োজন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। পিডিবির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের গড় দাম বর্তমানের ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৬৫ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন

তবে গণশুনানিতে অংশ নেওয়া দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সাধারণ ভোক্তাদের অধিকাংশ বর্তমান সংকটের সময়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর জন্য বিইআরসিকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে চলতি অর্থবছরে ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে ৬৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিশাল আর্থিক ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি বিদ্যুতের দাম দ্রুত বাড়ানো না হয়, তবে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে অংশীজনরা দাম বাড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও লুটপাটের দায় এখন সাধারণ গ্রাহকের কাঁধে চাপানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিল করে উল্টো বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য শুনানি করা উচিত ছিল। ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়লে তার বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শিল্পোদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন।

এদিকে বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, আজ পাইকারি ও সঞ্চালন মূল্যহারের পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরাসরি গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের মতো গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যখন খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদ্যুতের ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

আপডেট সময় ০৪:২০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দেশে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ২১ শতাংশ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। একই সঙ্গে গ্রাহক বা আবাসিক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৪৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) সকালে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

গণশুনানিটির আয়োজন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। পিডিবির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের গড় দাম বর্তমানের ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৬৫ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালিতে হামলার জেরে আবার ঊর্ধ্বমুখী বিশ্ববাজারে তেলের দাম

তবে গণশুনানিতে অংশ নেওয়া দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সাধারণ ভোক্তাদের অধিকাংশ বর্তমান সংকটের সময়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর জন্য বিইআরসিকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে চলতি অর্থবছরে ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে ৬৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিশাল আর্থিক ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি বিদ্যুতের দাম দ্রুত বাড়ানো না হয়, তবে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে অংশীজনরা দাম বাড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও লুটপাটের দায় এখন সাধারণ গ্রাহকের কাঁধে চাপানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিল করে উল্টো বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য শুনানি করা উচিত ছিল। ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়লে তার বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শিল্পোদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন।

এদিকে বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, আজ পাইকারি ও সঞ্চালন মূল্যহারের পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরাসরি গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের মতো গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যখন খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়।