ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 74

ছবি সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ আখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
এই রিটে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদের ২৪ জনের ভূমিকা তদন্ত করার এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে দেশে পূর্বে বহাল থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচিকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে সরিয়ে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
একই সঙ্গে এই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে সরকারের কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজিএইচএস) সংশ্লিষ্ট সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে একটি আইনি বা লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল।
অন্যথায় কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতা ও নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আজ এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে বলে আইনজীবী জানান।

আরও পড়ুন  নিশি ইসলামের মামলায় অভিনেত্রী শাওনসহ ১২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “দেশে আবারও অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পলিসির চরম গাফিলতির কারণে ইতিমধ্যে শতাধিক নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

রিটে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব শীর্ষ ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন—ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ২৪ জন।
হামের জাতীয় টিকা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার এই ‘অশুভ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ তারা স্বার্থসংশ্লিষ্টভাবে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এই আইনজীবী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন

আপডেট সময় ০৬:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ আখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
এই রিটে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদের ২৪ জনের ভূমিকা তদন্ত করার এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে দেশে পূর্বে বহাল থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচিকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে সরিয়ে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
একই সঙ্গে এই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে সরকারের কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজিএইচএস) সংশ্লিষ্ট সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে একটি আইনি বা লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল।
অন্যথায় কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতা ও নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আজ এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে বলে আইনজীবী জানান।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তি: ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ

ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “দেশে আবারও অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পলিসির চরম গাফিলতির কারণে ইতিমধ্যে শতাধিক নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

রিটে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব শীর্ষ ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন—ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ২৪ জন।
হামের জাতীয় টিকা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার এই ‘অশুভ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ তারা স্বার্থসংশ্লিষ্টভাবে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এই আইনজীবী।