ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা চালুর মহাপরিকল্পনা সরকারের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 101

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি উল্লেখ করেন, এই পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়ায় আখচাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনা—এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শনিবার পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত আখচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী তার বক্তব্যে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোকে জনগণের সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এগুলোর সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ২৫% শুল্ক: ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ

দেশের চিনিকলগুলোর বর্তমান চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বেশ কিছু চিনিকল বন্ধ রয়েছে এবং সচল থাকা মিলগুলোও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চলছে।
অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর পার হয়ে যাওয়ায় আধুনিকায়ন ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া এগুলোকে কার্যকরভাবে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, কোনো কোনো মিলে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে, আবার কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন পড়বে।
কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প টেকসই পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে।

একটি শিল্পকারখানা সচল থাকার বহুমুখী সুবিধার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কেবল শ্রমিকরাই নন, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত সাধারণ মানুষও উপকৃত হন। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বন্ধ মিলগুলো সচল করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড ১৯৬৬-৬৯ সালে দৈনিক ১ হাজার ১৬ মেট্রিক টন আখ মাড়াই ক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ১৯৬৯-৭০ অর্থবছরে এটি চূড়ান্ত উৎপাদনে যায় এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা চালুর মহাপরিকল্পনা সরকারের

আপডেট সময় ০৫:১৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

দেশের বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি উল্লেখ করেন, এই পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়ায় আখচাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনা—এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শনিবার পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত আখচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী তার বক্তব্যে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোকে জনগণের সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এগুলোর সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ২৫% শুল্ক: ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ

দেশের চিনিকলগুলোর বর্তমান চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বেশ কিছু চিনিকল বন্ধ রয়েছে এবং সচল থাকা মিলগুলোও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চলছে।
অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর পার হয়ে যাওয়ায় আধুনিকায়ন ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া এগুলোকে কার্যকরভাবে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, কোনো কোনো মিলে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে, আবার কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন পড়বে।
কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প টেকসই পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে।

একটি শিল্পকারখানা সচল থাকার বহুমুখী সুবিধার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কেবল শ্রমিকরাই নন, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত সাধারণ মানুষও উপকৃত হন। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বন্ধ মিলগুলো সচল করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড ১৯৬৬-৬৯ সালে দৈনিক ১ হাজার ১৬ মেট্রিক টন আখ মাড়াই ক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ১৯৬৯-৭০ অর্থবছরে এটি চূড়ান্ত উৎপাদনে যায় এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।