ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

হরমুজে ইরানের ৭টি দ্রুতগামী নৌকা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের; অস্বীকার তেহরানের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 85

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা নতুন চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে ইরানের সাতটি দ্রুতগামী নৌযান ধ্বংস করেছে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে মার্কিন দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের তেল অবকাঠামো ও একটি ট্যাংকারে হামলার খবর নিশ্চিত করায় অঞ্চলটিতে অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান যুদ্ধ থামাতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জামায়াত আমিরের

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে তারা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে শিপিং কোম্পানি মারস্ক নিশ্চিত করেছে যে, তাদের একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ সামরিক পাহারায় নিরাপদে উপসাগর ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ হিসেবে অভিহিত করে ব্যঙ্গ করেছেন এবং সংকটের সামরিক সমাধানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাংকারে হামলা ছাড়াও ফুজাইরাহ বন্দরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইউএই দাবি করেছে, তারা বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখার কথা জানিয়েছে। ইরান অবশ্য ইউএই-র ওপর হামলার অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ফ্রান্স এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং যুক্তরাজ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই সরবরাহ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া জাহাজগুলো বের করে আনার পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করা হবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে বহু জাহাজ আটকা পড়ায় আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজে ইরানের ৭টি দ্রুতগামী নৌকা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের; অস্বীকার তেহরানের

আপডেট সময় ০৮:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা নতুন চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে ইরানের সাতটি দ্রুতগামী নৌযান ধ্বংস করেছে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে মার্কিন দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের তেল অবকাঠামো ও একটি ট্যাংকারে হামলার খবর নিশ্চিত করায় অঞ্চলটিতে অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন  উপকূলে আঘাত এলে পারস্য উপসাগর ‘অচল’ করতে পারে ইরান

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে তারা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে শিপিং কোম্পানি মারস্ক নিশ্চিত করেছে যে, তাদের একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ সামরিক পাহারায় নিরাপদে উপসাগর ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ হিসেবে অভিহিত করে ব্যঙ্গ করেছেন এবং সংকটের সামরিক সমাধানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাংকারে হামলা ছাড়াও ফুজাইরাহ বন্দরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইউএই দাবি করেছে, তারা বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখার কথা জানিয়েছে। ইরান অবশ্য ইউএই-র ওপর হামলার অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ফ্রান্স এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং যুক্তরাজ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই সরবরাহ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া জাহাজগুলো বের করে আনার পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করা হবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে বহু জাহাজ আটকা পড়ায় আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।