ঢাকা ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বনদস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে ১৩ দিন পর ঘরে ফিরলেন ৬ জেলে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 180

ছবি: সংগৃহীত

সুন্দরবনে দীর্ঘ ১৩ দিন বনদস্যুদের হাতে বন্দী থাকার পর মুক্তিপণ দিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন ছয়জন জেলে। আজ শনিবার ভোর রাতে অপহৃত জেলেরা বাড়িতে পৌঁছান বলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল পূর্ব সুন্দরবনের কোকিলমনি ও চাতরা এলাকা থেকে ‘শরীফ’ ও ‘নানা ভাই’ বাহিনী তাদের অপহরণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার কালাম ফরাজী, আনোয়ার বয়াতী, কিবরুল এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার হরিণটানা গ্রামের মহসিন ও আব্দুস সালাম।
অপর এক জেলের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কালাম ফরাজীর স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, বনদস্যুদের দাবি করা অর্থ পরিশোধের পর শনিবার ভোরে তার স্বামীসহ অন্য জেলেরা ফিরে এসেছেন।

আরও পড়ুন  সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ১৩৫টি ফাঁদ জব্দ, আগুনে ধ্বংস

নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জেলে মহাজন অভিযোগ করে বলেন, গত ২০ এপ্রিল তার ছয়জন জেলেকে দস্যুবাহিনী অপহরণ করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছিল।
পরবর্তীকালে বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ প্রদান করে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে সুন্দরবনে বনদস্যুদের ‘নীরব চাঁদাবাজি’ চলছে, যার ফলে সাধারণ জেলে ও মৌয়ালরা চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এখনও কয়েকজন মৌয়াল দস্যুদের কবলে আটকে আছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সুন্দরবনে মাছ ধরতে বা মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে পুনরায় দস্যুদের কবলে পড়ার আশঙ্কায় অনেক বনজীবী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
দস্যু বাহিনীর এই তৎপরতা সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ফিরে আসার বিষয়ে তার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী পরিবার বা মহাজন থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে দস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বনদস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে ১৩ দিন পর ঘরে ফিরলেন ৬ জেলে

আপডেট সময় ০৭:১৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সুন্দরবনে দীর্ঘ ১৩ দিন বনদস্যুদের হাতে বন্দী থাকার পর মুক্তিপণ দিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন ছয়জন জেলে। আজ শনিবার ভোর রাতে অপহৃত জেলেরা বাড়িতে পৌঁছান বলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল পূর্ব সুন্দরবনের কোকিলমনি ও চাতরা এলাকা থেকে ‘শরীফ’ ও ‘নানা ভাই’ বাহিনী তাদের অপহরণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার কালাম ফরাজী, আনোয়ার বয়াতী, কিবরুল এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার হরিণটানা গ্রামের মহসিন ও আব্দুস সালাম।
অপর এক জেলের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কালাম ফরাজীর স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, বনদস্যুদের দাবি করা অর্থ পরিশোধের পর শনিবার ভোরে তার স্বামীসহ অন্য জেলেরা ফিরে এসেছেন।

আরও পড়ুন  সুন্দরবনে রিসোর্টে ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২

নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জেলে মহাজন অভিযোগ করে বলেন, গত ২০ এপ্রিল তার ছয়জন জেলেকে দস্যুবাহিনী অপহরণ করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছিল।
পরবর্তীকালে বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ প্রদান করে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে সুন্দরবনে বনদস্যুদের ‘নীরব চাঁদাবাজি’ চলছে, যার ফলে সাধারণ জেলে ও মৌয়ালরা চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এখনও কয়েকজন মৌয়াল দস্যুদের কবলে আটকে আছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সুন্দরবনে মাছ ধরতে বা মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে পুনরায় দস্যুদের কবলে পড়ার আশঙ্কায় অনেক বনজীবী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
দস্যু বাহিনীর এই তৎপরতা সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ফিরে আসার বিষয়ে তার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী পরিবার বা মহাজন থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে দস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।