ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

সেচ নির্বিঘ্ন করতে ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 109

ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে চলমান সেচ কার্যক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। গতকাল বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। এই ২ হাজার মেগাওয়াটের বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে লোডশেডিং অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বণ্টনের বৈষম্য কমিয়ে আনতেই প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে এই লোডশেডিং চালু করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বর্তমান ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর লোডশেডিং থেকে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ সরাসরি সেচ কাজে ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন  কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা; জ্বালানি ডিপোতে ভয়াবহ আগুন

বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় হিসেবে গ্যাস ও কয়লা সংকটের কথা উল্লেখ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে এ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতির আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া, একটি আমদানিনির্ভর ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সরবরাহ আরও কমেছে।

বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ফিরলে আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সেচ নির্বিঘ্ন করতে ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের ঘোষণা

আপডেট সময় ০৭:১২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশে চলমান সেচ কার্যক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। গতকাল বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। এই ২ হাজার মেগাওয়াটের বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে লোডশেডিং অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বণ্টনের বৈষম্য কমিয়ে আনতেই প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে এই লোডশেডিং চালু করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বর্তমান ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর লোডশেডিং থেকে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ সরাসরি সেচ কাজে ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন  দেশে জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস, তবে সরবরাহে চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে

বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় হিসেবে গ্যাস ও কয়লা সংকটের কথা উল্লেখ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে এ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতির আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া, একটি আমদানিনির্ভর ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সরবরাহ আরও কমেছে।

বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ফিরলে আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।