ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে

নবাবগঞ্জে ছাত্র নির্যাতন! শাস্তির দাবিতে অভিভাবকদের মানববন্ধন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 96

ছবি সংগৃহীত

 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের জৈনতপুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় চার শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে নির্যাতনের শিকার শিশুদের অভিভাবকসহ স্থানীয় কয়েকশ মানুষ অংশ নিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।

নির্যাতনের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী সাঈদ হোসেন অভিযোগ করেছে, একটি তুচ্ছ ঘটনার জেরে শিক্ষক নান্দান তার পায়ের ওপর প্রায় দুই মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন। যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও ওই শিক্ষক কর্ণপাত না করে উল্টো বেত দিয়ে তাকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করেন। অন্য এক শিক্ষার্থী ছোয়াইব হোসেনের দাবি, পড়া না পারার অজুহাতে শিক্ষক জাকারিয়া তাকে একাধিকবার বেত্রাঘাত করেন এবং মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। জুনায়েত কাজী ও সিফাত নামের আরও দুই শিক্ষার্থী একই ধরনের পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  নবাবগঞ্জে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান, তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে জুনায়েত কাজীর মা জান্নাতুল আক্তার অভিযোগ করেন, বাবা-মায়ের কথা মনে করে কান্নাকাটি করায় তার ছেলেকে প্রায়ই মারধর করা হতো। এমনকি গোসলে দেরি হওয়ার অযুহাতে শিক্ষক জাকারিয়া তাকে টানা দেড় ঘণ্টা কান ধরে ওঠ-বস করান। একপর্যায়ে কান টেনে ধরায় ওই শিশুর কান দিয়ে রক্ত পর্যন্ত বের হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জুনায়েতের বাবা মুন্নু কাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদ্রাসার প্রধানের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি এবং থানায় অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে প্রিন্সিপাল আশরাফুল ইসলামকেও পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অভিযুক্তরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা হওয়ার কথা শোনা গেলেও যেহেতু ভুক্তভোগীরা এখন আইনি বিচার চাইছেন, তাই পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

নবাবগঞ্জে ছাত্র নির্যাতন! শাস্তির দাবিতে অভিভাবকদের মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৭:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের জৈনতপুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় চার শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে নির্যাতনের শিকার শিশুদের অভিভাবকসহ স্থানীয় কয়েকশ মানুষ অংশ নিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।

নির্যাতনের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী সাঈদ হোসেন অভিযোগ করেছে, একটি তুচ্ছ ঘটনার জেরে শিক্ষক নান্দান তার পায়ের ওপর প্রায় দুই মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন। যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও ওই শিক্ষক কর্ণপাত না করে উল্টো বেত দিয়ে তাকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করেন। অন্য এক শিক্ষার্থী ছোয়াইব হোসেনের দাবি, পড়া না পারার অজুহাতে শিক্ষক জাকারিয়া তাকে একাধিকবার বেত্রাঘাত করেন এবং মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। জুনায়েত কাজী ও সিফাত নামের আরও দুই শিক্ষার্থী একই ধরনের পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  নবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দম্পতি গ্রেপ্তার

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে জুনায়েত কাজীর মা জান্নাতুল আক্তার অভিযোগ করেন, বাবা-মায়ের কথা মনে করে কান্নাকাটি করায় তার ছেলেকে প্রায়ই মারধর করা হতো। এমনকি গোসলে দেরি হওয়ার অযুহাতে শিক্ষক জাকারিয়া তাকে টানা দেড় ঘণ্টা কান ধরে ওঠ-বস করান। একপর্যায়ে কান টেনে ধরায় ওই শিশুর কান দিয়ে রক্ত পর্যন্ত বের হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জুনায়েতের বাবা মুন্নু কাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদ্রাসার প্রধানের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি এবং থানায় অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে প্রিন্সিপাল আশরাফুল ইসলামকেও পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অভিযুক্তরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা হওয়ার কথা শোনা গেলেও যেহেতু ভুক্তভোগীরা এখন আইনি বিচার চাইছেন, তাই পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।