ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ক্ষেপণাস্ত্র তাক করতেই হরমুজ থেকে পিছু হটল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ: দাবি ইরানের আবারও আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে: ডা. শফিকুর রহমান দুই মামলায় জামিনের পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান ৯ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয় কমানোর নির্দেশ: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু করছে ভারত হাঙ্গেরিতে পিটার ম্যাগিয়ারের বিজয়: অবসান ঘটল দীর্ঘ ১৬ বছরের অরবান শাসনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভাঙ্গায় বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ৩৫ ইরানের সব বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ শুরু: কঠোর অবস্থানে সেন্টকোম ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজি, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেফতার ৭

হাঙ্গেরিতে পিটার ম্যাগিয়ারের বিজয়: অবসান ঘটল দীর্ঘ ১৬ বছরের অরবান শাসনের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 30

ছবি সংগৃহীত

ইউরোপের রাজনীতির পটভূমিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। হাঙ্গেরির দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের একচ্ছত্র শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক বিশাল জয় পেয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী সাবেক রাজনৈতিক মিত্র পিটার ম্যাগিয়ার। যে শাসনব্যবস্থাকে বিশ্বজুড়ে সমালোচকরা ‘নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র’ বলে অভিহিত করতেন, বিপুল জনম্যান্ডেটের মুখে তা আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।

দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত রাজকীয় সংসদ ভবনের সামনে উল্লসিত হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ম্যাগিয়ার ঘোষণা করেছেন যে, হাঙ্গেরির সাধারণ মানুষ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে এবং দীর্ঘদিনের জগদ্দল শাসনের পতন ঘটিয়েছে।

প্রাথমিক ভোট গণনার ফলাফল অনুযায়ী, পিটার ম্যাগিয়ারের রাজনৈতিক দল ‘তিসজা’ ১৯৯টি আসনের মধ্যে অবিশ্বাস্য ১৩৮টিতে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, অরবানের ক্ষমতাসীন দল ‘ফিদেজ’ মাত্র ৫৫টি আসন নিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে এবং অতি-ডানপন্থী দল ‘আওয়ার হোমল্যান্ড’ পেয়েছে মাত্র ৬টি আসন। এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেবল ম্যাগিয়ারকে অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে একক ক্ষমতা দেবে না, বরং হাঙ্গেরির টালমাটাল বৈশ্বিক সম্পর্ককেও আমূল বদলে দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

আরও পড়ুন  সুশান্তের মৃত্যু আত্মহত্যাই, জানাল সিবিআই – শেষ হল জল্পনার অবসান

উল্লেখ্য, ভিক্টর অরবান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউক্রেনের জন্য প্রায়ই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত। ম্যাগিয়ার তাঁর বিজয়ী ভাষণে ইইউ এবং ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং রাশিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রাখার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পিটার ম্যাগিয়ারের এই বিজয়ের পথ মোটেও সহজ ছিল না। গত দুই বছর ধরে তিনি হাঙ্গেরির প্রতিটি প্রান্তে ঘুরে ঘুরে অরবানের প্রশাসনের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জনগণকে জাগ্রত করেছেন। এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৭৯.৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা দেশটির গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ভিক্টর অরবান।

তিনি ম্যাগিয়ারকে ফোন করে অভিনন্দন জানান এবং দলীয় সহকর্মীদের সামনে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই ফলাফলকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেন। অরবান স্বীকার করেছেন যে, সামনের সময়গুলো তাঁদের দলের জন্য নিজেদের ক্ষত সারিয়ে তোলার এবং পুনর্গঠনের সময়।

ক্ষমতা গ্রহণের পর ম্যাগিয়ার অরবানের আমলের বিতর্কিত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নীতি পরিবর্তনের পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে দমনের অঙ্গীকার করেছেন।

সংবিধান পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৩৩টি আসন) তিনি ইতোমধ্যেই অর্জন করেছেন। যদিও তাঁর অতীত অরবানের দলের সাথে থাকায় জনমনে কিছুটা সন্দেহ রয়ে গেছে, তবুও অধিকাংশ মানুষ এখন পরিবর্তনের আশায় তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন।

ম্যাগিয়ার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম গন্তব্য হবে পুরনো মিত্র দেশ পোল্যান্ড এবং এরপর তিনি ব্রাসেলস সফর করবেন যাতে দুর্নীতির দায়ে আটকে থাকা ১৭ বিলিয়ন ইউরো ইইউ তহবিল ছাড় করানো যায়।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ইতোমধ্যেই ম্যাগিয়ারকে হাঙ্গেরীয় ভাষায় অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা ইউরোপীয় রাজনীতিতে বুদাপেস্টের নতুন অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন

হাঙ্গেরিতে পিটার ম্যাগিয়ারের বিজয়: অবসান ঘটল দীর্ঘ ১৬ বছরের অরবান শাসনের

আপডেট সময় ০১:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইউরোপের রাজনীতির পটভূমিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। হাঙ্গেরির দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের একচ্ছত্র শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক বিশাল জয় পেয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী সাবেক রাজনৈতিক মিত্র পিটার ম্যাগিয়ার। যে শাসনব্যবস্থাকে বিশ্বজুড়ে সমালোচকরা ‘নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র’ বলে অভিহিত করতেন, বিপুল জনম্যান্ডেটের মুখে তা আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।

দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত রাজকীয় সংসদ ভবনের সামনে উল্লসিত হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ম্যাগিয়ার ঘোষণা করেছেন যে, হাঙ্গেরির সাধারণ মানুষ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে এবং দীর্ঘদিনের জগদ্দল শাসনের পতন ঘটিয়েছে।

প্রাথমিক ভোট গণনার ফলাফল অনুযায়ী, পিটার ম্যাগিয়ারের রাজনৈতিক দল ‘তিসজা’ ১৯৯টি আসনের মধ্যে অবিশ্বাস্য ১৩৮টিতে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, অরবানের ক্ষমতাসীন দল ‘ফিদেজ’ মাত্র ৫৫টি আসন নিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে এবং অতি-ডানপন্থী দল ‘আওয়ার হোমল্যান্ড’ পেয়েছে মাত্র ৬টি আসন। এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেবল ম্যাগিয়ারকে অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে একক ক্ষমতা দেবে না, বরং হাঙ্গেরির টালমাটাল বৈশ্বিক সম্পর্ককেও আমূল বদলে দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

আরও পড়ুন  সুশান্তের মৃত্যু আত্মহত্যাই, জানাল সিবিআই – শেষ হল জল্পনার অবসান

উল্লেখ্য, ভিক্টর অরবান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউক্রেনের জন্য প্রায়ই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত। ম্যাগিয়ার তাঁর বিজয়ী ভাষণে ইইউ এবং ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং রাশিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রাখার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পিটার ম্যাগিয়ারের এই বিজয়ের পথ মোটেও সহজ ছিল না। গত দুই বছর ধরে তিনি হাঙ্গেরির প্রতিটি প্রান্তে ঘুরে ঘুরে অরবানের প্রশাসনের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জনগণকে জাগ্রত করেছেন। এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৭৯.৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা দেশটির গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ভিক্টর অরবান।

তিনি ম্যাগিয়ারকে ফোন করে অভিনন্দন জানান এবং দলীয় সহকর্মীদের সামনে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই ফলাফলকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেন। অরবান স্বীকার করেছেন যে, সামনের সময়গুলো তাঁদের দলের জন্য নিজেদের ক্ষত সারিয়ে তোলার এবং পুনর্গঠনের সময়।

ক্ষমতা গ্রহণের পর ম্যাগিয়ার অরবানের আমলের বিতর্কিত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নীতি পরিবর্তনের পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে দমনের অঙ্গীকার করেছেন।

সংবিধান পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৩৩টি আসন) তিনি ইতোমধ্যেই অর্জন করেছেন। যদিও তাঁর অতীত অরবানের দলের সাথে থাকায় জনমনে কিছুটা সন্দেহ রয়ে গেছে, তবুও অধিকাংশ মানুষ এখন পরিবর্তনের আশায় তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন।

ম্যাগিয়ার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম গন্তব্য হবে পুরনো মিত্র দেশ পোল্যান্ড এবং এরপর তিনি ব্রাসেলস সফর করবেন যাতে দুর্নীতির দায়ে আটকে থাকা ১৭ বিলিয়ন ইউরো ইইউ তহবিল ছাড় করানো যায়।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ইতোমধ্যেই ম্যাগিয়ারকে হাঙ্গেরীয় ভাষায় অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা ইউরোপীয় রাজনীতিতে বুদাপেস্টের নতুন অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি নিউজ