মার্কিন হামলায় গুরুতর আহত মোজতবা খামেনি; কোম শহরের হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়!
- আপডেট সময় ১২:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 22
ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত অবস্থায় কোম শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি সংজ্ঞাহীন বা অচেতন অবস্থায় রয়েছেন এবং দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে এলো।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি যৌথ গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্প্রতি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই নথির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মোজতবা খামেনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোম শহরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো যৌথ হামলার পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন।
ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবার পিতা এবং ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে, আলি খামেনি নিহত হওয়ার এক মাসের বেশি সময় পার হলেও তাকে এখনও সমাহিত করা হয়নি। বর্তমানে কোম শহরে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে গোয়েন্দা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান সংঘাত বন্ধে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে ইরানকে টোল আদায়ের অধিকার দিতে হবে।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইরানকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতে হবে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
মোজতবা খামেনির অসুস্থতা এবং সাবেক সুপ্রিম লিডারের মৃত্যু সংবাদ যদি সত্য হয়, তবে তা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে টোল আদায়ের দাবি এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের শর্তগুলো আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





















