ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর: সংসদে বিল পাস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 156

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ধরনের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করেছিল।
তবে কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগবিধিতে বয়সসীমা ৩৩ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই জটিলতা নিরসন এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আইনি ভিত্তি দিতে এই অধ্যাদেশটিকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকারের শপথ: বঙ্গভবন ও সংসদে সাজ সাজ রব

নতুন এই আইন অনুযায়ী, বিসিএসের সব ক্যাডার এবং ক্যাডার বহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই একই বয়সসীমা কার্যকর হবে। এর ফলে সরকারি চাকরির সব স্তরে বয়সের একটি অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি হলো।

বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির রিপোর্টের বিষয়ে আলোচনা দাবি করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশই পর্যায়ক্রমে সংসদে তোলা হবে এবং আলোচনার সুযোগ থাকবে।

তবে বিলটি পাসের সময় একটি নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিলের দফাগুলো যখন ভোটে দেওয়া হয়, তখন বিরোধী দলের সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ ভোট না দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল চাকরিতে নিয়োগ ও বয়সসীমা সংস্কার। যে আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছে এবং আমরা স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছি, সেই সংক্রান্ত বিল পাসের সময় বিরোধী দল কেন ‘হ্যাঁ’ বলল না, তা বোধগম্য নয়। তবে তারা ‘না’-ও বলেনি।”

কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলের দফাগুলো সরাসরি ভোটে দেন এবং তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার আইনি অবসান ঘটল।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর: সংসদে বিল পাস

আপডেট সময় ০৭:১৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ধরনের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করেছিল।
তবে কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগবিধিতে বয়সসীমা ৩৩ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই জটিলতা নিরসন এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আইনি ভিত্তি দিতে এই অধ্যাদেশটিকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা

নতুন এই আইন অনুযায়ী, বিসিএসের সব ক্যাডার এবং ক্যাডার বহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই একই বয়সসীমা কার্যকর হবে। এর ফলে সরকারি চাকরির সব স্তরে বয়সের একটি অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি হলো।

বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির রিপোর্টের বিষয়ে আলোচনা দাবি করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশই পর্যায়ক্রমে সংসদে তোলা হবে এবং আলোচনার সুযোগ থাকবে।

তবে বিলটি পাসের সময় একটি নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিলের দফাগুলো যখন ভোটে দেওয়া হয়, তখন বিরোধী দলের সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ ভোট না দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল চাকরিতে নিয়োগ ও বয়সসীমা সংস্কার। যে আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছে এবং আমরা স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছি, সেই সংক্রান্ত বিল পাসের সময় বিরোধী দল কেন ‘হ্যাঁ’ বলল না, তা বোধগম্য নয়। তবে তারা ‘না’-ও বলেনি।”

কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলের দফাগুলো সরাসরি ভোটে দেন এবং তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার আইনি অবসান ঘটল।