আ.লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিধান রেখে সংসদে পাস হচ্ছে সংশোধিত অধ্যাদেশ
- আপডেট সময় ০৭:০৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 18
বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের আইনি পথ আরও প্রশস্ত হতে যাচ্ছে। দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কিছু পরিমার্জন ও সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করেন কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি। এই সুপারিশের ফলে দলটির সভা, সমাবেশ ও প্রকাশনার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়াটি এখন সংসদীয় অনুমোদনের অপেক্ষায়।
বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছুটা ভাষাগত পরিবর্তন বা পরিমার্জন আনা হচ্ছে। তবে এই সংশোধনীর বিস্তারিত রূপরেখা এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিল না করে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে বিশেষ কমিটি। এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তার ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের দায়ে তার প্রকাশনা ও সাংগঠনিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত হতে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিলেও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগটি বর্তমান অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুম বিরোধী অধ্যাদেশসহ মোট ১৬টি বিষয় বর্তমানে অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিল আকারে পেশ করতে বলা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এর ফলে বিগত সরকারের আমলে হওয়া গুমের বিচার প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।
বাতিলের কারণ: প্রধান বিচারপতির অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠন এবং ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের উদ্যোগগুলো এই সুপারিশের ফলে বাধার মুখে পড়ল।
স্থগিতাদেশ: এছাড়া বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত আরও ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বর্তমানে ‘শেলভড’ বা স্থগিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদনে সব সদস্য একমত হতে পারেননি। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সিদ্ধান্তের ওপর ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ২০টি অধ্যাদেশের ওপর বিরোধী দলীয় সদস্যদের এই জোরালো আপত্তি সংসদীয় বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিলগুলো পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রেখে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বড় একটি অংশ সংস্কার এখন সংসদীয় ভোটাভুটি ও বিতর্কের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।






















