ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

এভারেস্টে পর্যটকদের খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 143

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে এক রোমহর্ষক বিমা জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে নেপাল পুলিশ। খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে পর্যটকদের কৃত্রিমভাবে অসুস্থ করার পর হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে প্রায় ২ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫০ কোটি টাকার বেশি) হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

যেভাবে চলত এই ‘বিষাক্ত’ জালিয়াতি তদন্তে দেখা গেছে, এই জালিয়াতি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হতো। এতে ট্রেকিং গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি সরাসরি জড়িত ছিল।

আরও পড়ুন  মধ্যরাতে জাবির ছাত্রী হলের রুম থেকে টিপ, প্লাজু পরা যুবক আটক

প্রতারণার কৌশল: গাইডরা পর্যটকদের খাবারে কৌশলে বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস এমনকি ইঁদুরের বিষ্ঠা পর্যন্ত মিশিয়ে দিত।
উপসর্গ: এর ফলে পর্যটকদের বমি, মাথাব্যথা ও চরম দুর্বলতা দেখা দিত, যা অনেকটা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার মতো।
উদ্ধার নাটক: পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে গাইডরা তাদের দ্রুত হেলিকপ্টার উদ্ধারে রাজি করাত। নিচে নামানোর পর সুস্থ পর্যটকদেরও ‘গুরুতর অসুস্থ’ দেখিয়ে বিমা কোম্পানির কাছে মোটা অঙ্কের ভুয়া বিল পাঠানো হতো।

তদন্তের ভয়াবহ পরিসংখ্যান নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই নির্মম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সিআইবি ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ ভুয়া উদ্ধার অভিযানের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ৩৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সংকট সিআইবি প্রধান মনোজ কুমার কেসি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আগে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জালিয়াতিটি ডালপালা মেলেছে। এই কেলেঙ্কারির পর আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো নেপালকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে নেপালের পর্যটন খাত এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

সতর্কতা ও নজরদারি নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমান পর্যটন মৌসুমে প্রতিটি হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া পর্যটকদের কোনো গাইড বা ট্রেকিং কোম্পানি নির্বাচনের আগে তাদের অতীত রেকর্ড যাচাই করার জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এভারেস্টে পর্যটকদের খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে এক রোমহর্ষক বিমা জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে নেপাল পুলিশ। খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে পর্যটকদের কৃত্রিমভাবে অসুস্থ করার পর হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে প্রায় ২ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫০ কোটি টাকার বেশি) হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

যেভাবে চলত এই ‘বিষাক্ত’ জালিয়াতি তদন্তে দেখা গেছে, এই জালিয়াতি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হতো। এতে ট্রেকিং গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি সরাসরি জড়িত ছিল।

আরও পড়ুন  নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো আগ্রহ তাঁর নেই।

প্রতারণার কৌশল: গাইডরা পর্যটকদের খাবারে কৌশলে বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস এমনকি ইঁদুরের বিষ্ঠা পর্যন্ত মিশিয়ে দিত।
উপসর্গ: এর ফলে পর্যটকদের বমি, মাথাব্যথা ও চরম দুর্বলতা দেখা দিত, যা অনেকটা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার মতো।
উদ্ধার নাটক: পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে গাইডরা তাদের দ্রুত হেলিকপ্টার উদ্ধারে রাজি করাত। নিচে নামানোর পর সুস্থ পর্যটকদেরও ‘গুরুতর অসুস্থ’ দেখিয়ে বিমা কোম্পানির কাছে মোটা অঙ্কের ভুয়া বিল পাঠানো হতো।

তদন্তের ভয়াবহ পরিসংখ্যান নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই নির্মম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সিআইবি ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ ভুয়া উদ্ধার অভিযানের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ৩৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সংকট সিআইবি প্রধান মনোজ কুমার কেসি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আগে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জালিয়াতিটি ডালপালা মেলেছে। এই কেলেঙ্কারির পর আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো নেপালকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে নেপালের পর্যটন খাত এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

সতর্কতা ও নজরদারি নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমান পর্যটন মৌসুমে প্রতিটি হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া পর্যটকদের কোনো গাইড বা ট্রেকিং কোম্পানি নির্বাচনের আগে তাদের অতীত রেকর্ড যাচাই করার জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।