ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :

এভারেস্টে পর্যটকদের খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 180

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে এক রোমহর্ষক বিমা জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে নেপাল পুলিশ। খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে পর্যটকদের কৃত্রিমভাবে অসুস্থ করার পর হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে প্রায় ২ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫০ কোটি টাকার বেশি) হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

যেভাবে চলত এই ‘বিষাক্ত’ জালিয়াতি তদন্তে দেখা গেছে, এই জালিয়াতি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হতো। এতে ট্রেকিং গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি সরাসরি জড়িত ছিল।

আরও পড়ুন  ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ভুয়া নারী চিকিৎসক আটক

প্রতারণার কৌশল: গাইডরা পর্যটকদের খাবারে কৌশলে বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস এমনকি ইঁদুরের বিষ্ঠা পর্যন্ত মিশিয়ে দিত।
উপসর্গ: এর ফলে পর্যটকদের বমি, মাথাব্যথা ও চরম দুর্বলতা দেখা দিত, যা অনেকটা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার মতো।
উদ্ধার নাটক: পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে গাইডরা তাদের দ্রুত হেলিকপ্টার উদ্ধারে রাজি করাত। নিচে নামানোর পর সুস্থ পর্যটকদেরও ‘গুরুতর অসুস্থ’ দেখিয়ে বিমা কোম্পানির কাছে মোটা অঙ্কের ভুয়া বিল পাঠানো হতো।

তদন্তের ভয়াবহ পরিসংখ্যান নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই নির্মম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সিআইবি ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ ভুয়া উদ্ধার অভিযানের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ৩৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সংকট সিআইবি প্রধান মনোজ কুমার কেসি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আগে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জালিয়াতিটি ডালপালা মেলেছে। এই কেলেঙ্কারির পর আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো নেপালকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে নেপালের পর্যটন খাত এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

সতর্কতা ও নজরদারি নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমান পর্যটন মৌসুমে প্রতিটি হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া পর্যটকদের কোনো গাইড বা ট্রেকিং কোম্পানি নির্বাচনের আগে তাদের অতীত রেকর্ড যাচাই করার জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এভারেস্টে পর্যটকদের খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে এক রোমহর্ষক বিমা জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে নেপাল পুলিশ। খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে পর্যটকদের কৃত্রিমভাবে অসুস্থ করার পর হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে প্রায় ২ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫০ কোটি টাকার বেশি) হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

যেভাবে চলত এই ‘বিষাক্ত’ জালিয়াতি তদন্তে দেখা গেছে, এই জালিয়াতি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হতো। এতে ট্রেকিং গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি সরাসরি জড়িত ছিল।

আরও পড়ুন  সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় পত্র (আইডি কার্ড) তৈরীর অভিযোগে বগুড়ায় আটক ৮

প্রতারণার কৌশল: গাইডরা পর্যটকদের খাবারে কৌশলে বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস এমনকি ইঁদুরের বিষ্ঠা পর্যন্ত মিশিয়ে দিত।
উপসর্গ: এর ফলে পর্যটকদের বমি, মাথাব্যথা ও চরম দুর্বলতা দেখা দিত, যা অনেকটা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার মতো।
উদ্ধার নাটক: পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে গাইডরা তাদের দ্রুত হেলিকপ্টার উদ্ধারে রাজি করাত। নিচে নামানোর পর সুস্থ পর্যটকদেরও ‘গুরুতর অসুস্থ’ দেখিয়ে বিমা কোম্পানির কাছে মোটা অঙ্কের ভুয়া বিল পাঠানো হতো।

তদন্তের ভয়াবহ পরিসংখ্যান নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই নির্মম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সিআইবি ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ ভুয়া উদ্ধার অভিযানের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ৩৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সংকট সিআইবি প্রধান মনোজ কুমার কেসি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আগে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জালিয়াতিটি ডালপালা মেলেছে। এই কেলেঙ্কারির পর আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো নেপালকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে নেপালের পর্যটন খাত এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

সতর্কতা ও নজরদারি নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমান পর্যটন মৌসুমে প্রতিটি হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া পর্যটকদের কোনো গাইড বা ট্রেকিং কোম্পানি নির্বাচনের আগে তাদের অতীত রেকর্ড যাচাই করার জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।