ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ঢাকায়

এভারেস্টে পর্যটকদের খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 179

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে এক রোমহর্ষক বিমা জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে নেপাল পুলিশ। খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে পর্যটকদের কৃত্রিমভাবে অসুস্থ করার পর হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে প্রায় ২ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫০ কোটি টাকার বেশি) হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

যেভাবে চলত এই ‘বিষাক্ত’ জালিয়াতি তদন্তে দেখা গেছে, এই জালিয়াতি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হতো। এতে ট্রেকিং গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি সরাসরি জড়িত ছিল।

আরও পড়ুন  দেশে অপরাধ বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে জনমনে আতঙ্ক

প্রতারণার কৌশল: গাইডরা পর্যটকদের খাবারে কৌশলে বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস এমনকি ইঁদুরের বিষ্ঠা পর্যন্ত মিশিয়ে দিত।
উপসর্গ: এর ফলে পর্যটকদের বমি, মাথাব্যথা ও চরম দুর্বলতা দেখা দিত, যা অনেকটা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার মতো।
উদ্ধার নাটক: পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে গাইডরা তাদের দ্রুত হেলিকপ্টার উদ্ধারে রাজি করাত। নিচে নামানোর পর সুস্থ পর্যটকদেরও ‘গুরুতর অসুস্থ’ দেখিয়ে বিমা কোম্পানির কাছে মোটা অঙ্কের ভুয়া বিল পাঠানো হতো।

তদন্তের ভয়াবহ পরিসংখ্যান নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই নির্মম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সিআইবি ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ ভুয়া উদ্ধার অভিযানের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ৩৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সংকট সিআইবি প্রধান মনোজ কুমার কেসি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আগে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জালিয়াতিটি ডালপালা মেলেছে। এই কেলেঙ্কারির পর আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো নেপালকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে নেপালের পর্যটন খাত এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

সতর্কতা ও নজরদারি নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমান পর্যটন মৌসুমে প্রতিটি হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া পর্যটকদের কোনো গাইড বা ট্রেকিং কোম্পানি নির্বাচনের আগে তাদের অতীত রেকর্ড যাচাই করার জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এভারেস্টে পর্যটকদের খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে এক রোমহর্ষক বিমা জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে নেপাল পুলিশ। খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে পর্যটকদের কৃত্রিমভাবে অসুস্থ করার পর হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে প্রায় ২ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫০ কোটি টাকার বেশি) হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

যেভাবে চলত এই ‘বিষাক্ত’ জালিয়াতি তদন্তে দেখা গেছে, এই জালিয়াতি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হতো। এতে ট্রেকিং গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি সরাসরি জড়িত ছিল।

আরও পড়ুন  বন্দরে জোড়া খুন: সাবেক কাউন্সিলরসহ চারজন গ্রেপ্তার

প্রতারণার কৌশল: গাইডরা পর্যটকদের খাবারে কৌশলে বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস এমনকি ইঁদুরের বিষ্ঠা পর্যন্ত মিশিয়ে দিত।
উপসর্গ: এর ফলে পর্যটকদের বমি, মাথাব্যথা ও চরম দুর্বলতা দেখা দিত, যা অনেকটা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার মতো।
উদ্ধার নাটক: পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে গাইডরা তাদের দ্রুত হেলিকপ্টার উদ্ধারে রাজি করাত। নিচে নামানোর পর সুস্থ পর্যটকদেরও ‘গুরুতর অসুস্থ’ দেখিয়ে বিমা কোম্পানির কাছে মোটা অঙ্কের ভুয়া বিল পাঠানো হতো।

তদন্তের ভয়াবহ পরিসংখ্যান নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই নির্মম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সিআইবি ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ ভুয়া উদ্ধার অভিযানের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ৩৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সংকট সিআইবি প্রধান মনোজ কুমার কেসি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আগে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জালিয়াতিটি ডালপালা মেলেছে। এই কেলেঙ্কারির পর আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো নেপালকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে নেপালের পর্যটন খাত এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

সতর্কতা ও নজরদারি নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমান পর্যটন মৌসুমে প্রতিটি হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া পর্যটকদের কোনো গাইড বা ট্রেকিং কোম্পানি নির্বাচনের আগে তাদের অতীত রেকর্ড যাচাই করার জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।