ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

পাঁচ বছর পর আদালতের রায়ে মেয়র হলেন বিএনপি নেতা সোহেল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • / 111

ছবি: সংগৃহীত

 

 

সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভা নির্বাচনের প্রায় পাঁচ বছর পর আদালতের রায়ে ফলাফল পাল্টে গেছে। ভোট পুনর্গণনায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বিএনপি নেতা মো. সোহেল আমিন-কে মেয়র ঘোষণা করেছে।

২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে মামলা করার পর আদালতের নির্দেশে ভোট পুনর্গণনা করা হয়। এতে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ২ মার্চ সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি সামনে আসে ৬ মার্চ।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়, আগে মেয়র হিসেবে ঘোষিত লুৎফুর রহমান-এর নাম বাতিল করে সেখানে সোহেল আমিনের নাম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

ভোট পুনর্গণনার দাবিতে নির্বাচনের পরপরই মামলা করেছিলেন সোহেল আমিন। মামলার শুনানি শেষে বিশ্বেশ্বর সিংহ, যিনি সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেওয়া রায়ে সোহেল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

জানা যায়, নির্বাচনের সময় সোহেল আমিনের প্রকৃত ভোট কম দেখিয়ে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে ১৪৬ ভোট বেশি দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে আদালতের সামনে পুনর্গণনায় দেখা যায়, সোহেল আমিন প্রকৃতপক্ষে ৬৮৪ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

রায়ের পর সোহেল আমিন বলেন, তিনি বেশি ভোট পাওয়ার পরও তৎকালীন ক্ষমতার প্রভাবে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছিল। তিনটি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পুনর্গণনা করে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, সংশোধিত গেজেট প্রকাশের পর এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছেন এবং শিগগিরই মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এছাড়া অবৈধভাবে মেয়র পদে দায়িত্ব পালন এবং ভাতা-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

২০২১ সালের নির্বাচনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তখন ঘোষিত ফলাফলে লুৎফুর রহমান ৩ হাজার ৮৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং সোহেল আমিন পান ৩ হাজার ৬৮৬ ভোট। তবে পুনর্গণনায় দেখা যায় তিনটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের ব্যালট বান্ডিলে ৫৫৪টি সাদা ব্যালট ঢোকানো হয়েছিল, যার ফলে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

পাঁচ বছর পর আদালতের রায়ে মেয়র হলেন বিএনপি নেতা সোহেল

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

 

 

সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভা নির্বাচনের প্রায় পাঁচ বছর পর আদালতের রায়ে ফলাফল পাল্টে গেছে। ভোট পুনর্গণনায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বিএনপি নেতা মো. সোহেল আমিন-কে মেয়র ঘোষণা করেছে।

২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে মামলা করার পর আদালতের নির্দেশে ভোট পুনর্গণনা করা হয়। এতে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ২ মার্চ সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি সামনে আসে ৬ মার্চ।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়, আগে মেয়র হিসেবে ঘোষিত লুৎফুর রহমান-এর নাম বাতিল করে সেখানে সোহেল আমিনের নাম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

ভোট পুনর্গণনার দাবিতে নির্বাচনের পরপরই মামলা করেছিলেন সোহেল আমিন। মামলার শুনানি শেষে বিশ্বেশ্বর সিংহ, যিনি সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেওয়া রায়ে সোহেল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

জানা যায়, নির্বাচনের সময় সোহেল আমিনের প্রকৃত ভোট কম দেখিয়ে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে ১৪৬ ভোট বেশি দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে আদালতের সামনে পুনর্গণনায় দেখা যায়, সোহেল আমিন প্রকৃতপক্ষে ৬৮৪ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

রায়ের পর সোহেল আমিন বলেন, তিনি বেশি ভোট পাওয়ার পরও তৎকালীন ক্ষমতার প্রভাবে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছিল। তিনটি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পুনর্গণনা করে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, সংশোধিত গেজেট প্রকাশের পর এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছেন এবং শিগগিরই মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এছাড়া অবৈধভাবে মেয়র পদে দায়িত্ব পালন এবং ভাতা-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

২০২১ সালের নির্বাচনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তখন ঘোষিত ফলাফলে লুৎফুর রহমান ৩ হাজার ৮৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং সোহেল আমিন পান ৩ হাজার ৬৮৬ ভোট। তবে পুনর্গণনায় দেখা যায় তিনটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের ব্যালট বান্ডিলে ৫৫৪টি সাদা ব্যালট ঢোকানো হয়েছিল, যার ফলে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়।