জেন-জি বিক্ষোভে উত্তপ্ত ভারত, পাঁচ দাবি তুলে ধরলেন রাহুল গান্ধী
- আপডেট সময় ১২:২৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 18
ভারতে জেন-জি আন্দোলন ও নিট (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার, ২২ জুলাই বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। একই দিনে বিক্ষোভ, ধর্না ও বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন সরব হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে বুধবার সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সংঘাত অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।
মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে। তিনি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধী এবং কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে আটক করে। পরে রাতের দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাহুল গান্ধীকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াংকা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াংকা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। রাত প্রায় ৯টার দিকে দুই ভাইবোন মুক্তি পান।
আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের ওপর অভিযানে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা এবং শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কার।
শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কেন ঘটছে, শিক্ষা কেন এত ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং সন্তানদের পড়াতে গিয়ে কেন পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে— এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায় নয়।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের সবাই চান বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হোক। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি ন্যায্য দাবির পক্ষে আন্দোলনকারীদের ধন্যবাদ জানান।
এদিকে নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে ধর্নাস্থলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং প্রায় আধা ঘণ্টা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তার দাবিগুলো শোনেন।
পরে জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনার বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে রাহুল গান্ধী এখন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন। তার দাবি, সরকার নিট ও সংশ্লিষ্ট আন্দোলন নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকলেও রাহুল গান্ধীর অবস্থান গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও মঙ্গলবার রাতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, সরকার পূর্ণাঙ্গ আলোচনার প্রস্তুতির কথা জানানোর পরও কংগ্রেস গণতান্ত্রিক বিতর্কের পরিবর্তে রাজনৈতিক নাটক বেছে নিয়েছে। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনই কংগ্রেসের লক্ষ্য। তিনি আরও দাবি করেন, রাহুল গান্ধী আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়ার পরও নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।























