ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
‘আপনি দয়া করে সাবধান থাকবেন’, তারেক রহমানকে মির্জা আব্বাস স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬ ইরান যুদ্ধের তথ্য ফাঁস, পেন্টাগনে ৫০ জনের পলিগ্রাফ পরীক্ষা ‘মায়ের মূর্ত প্রতীক’ খালেদা জিয়া: ভূমিমন্ত্রী কবর থেকে মরদেহ তুলে অন্যত্র দাফন, শামীমের মরদেহ দাফন হলো তিনবার কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা পাঁয়তারা চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী সিডনিতে শাবনূর-তাসকিনের জমজমাট বারবিকিউ আড্ডা এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ; মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ইসমাইল রংপুর মেডিকেলে এক মাসে কাটবে আইসিইউ সংকট: ত্রাণমন্ত্রী নৌকা থেকে পড়া ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

নবনির্মিত গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণ, কক্সবাজারে দগ্ধ ১৫

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 164

ছবি সংগৃহীত

 

 

কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী এলাকায় নবনির্মিত একটি গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘এন আলম’ নামের ওই ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে নিঃস্ব দুই পরিবার

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্টেশনটিতে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি স্থাপনায়ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হয়েছে।

কক্সবাজার শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ কলাতলী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধে কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তবে দেড় ঘণ্টার চেষ্টাতেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সাবুক্তগীন মাহমুদ শহেল জানান, দগ্ধ ১৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় এবং আটজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নবনির্মিত গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণ, কক্সবাজারে দগ্ধ ১৫

আপডেট সময় ০২:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী এলাকায় নবনির্মিত একটি গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘এন আলম’ নামের ওই ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে নিরবতা, ঈদে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুতি চলছে

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্টেশনটিতে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি স্থাপনায়ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হয়েছে।

কক্সবাজার শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ কলাতলী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধে কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তবে দেড় ঘণ্টার চেষ্টাতেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সাবুক্তগীন মাহমুদ শহেল জানান, দগ্ধ ১৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় এবং আটজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।