ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৬ দিনে প্রাণ হারাল ১৬৬ শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের আবারও ওয়াকআউট: ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

শান্তি আলোচনায় ব্যর্থ রাশিয়া-ইউক্রেন, তবে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে অগ্রগতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / 179

ছবি সংগৃহীত

 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি শান্তি আলোচনা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে উভয় দেশ যুদ্ধবন্দি ও মৃতদেহ বিনিময়ে কিছুটা সমঝোতায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইউক্রেনীয় আলোচকরা দাবি করেছেন, রাশিয়া আবারও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেন এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোর দিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন  ইসরাইল-হামাস সংঘাত: দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু

যদিও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি, উভয় পক্ষ প্রায় ১২ হাজার মৃত সেনার মরদেহ বিনিময়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ ও গুরুতর আহত বন্দি এবং ২৫ বছরের নিচে যেসব সেনা যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক আছে, তাদেরও বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।

রাশিয়ান প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, তারা কিছু নির্দিষ্ট ফ্রন্ট লাইনে দুই বা তিন দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা পুরো যুদ্ধক্ষেত্রে বিরতি দিতে রাজি হয়নি।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ, যিনি কিয়েভের আলোচক দলের নেতৃত্ব দেন, এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা অন্তত ৩০ দিনের জন্য স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছি। রাশিয়ার কাছে এই প্রস্তাব কয়েকদিন আগেই হস্তান্তর করা হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বরং তারা শুধু ইস্তাম্বুলের বৈঠকে তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।”

এখনও পর্যন্ত দুই দেশের পক্ষ থেকেই কোনো যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম বৈঠক শেষ হওয়ার পর তাদের মূল দাবিগুলো প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম দাবি হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের চারটি আংশিকভাবে দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা।

উল্লেখ্য, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে সংযুক্ত দক্ষিণের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও তীব্র বিভাজন থাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে মানবিক ইস্যুতে সামান্য অগ্রগতি শান্তির সম্ভাবনার একটি ক্ষীণ আশার রেখা হয়ে রইল।

নিউজটি শেয়ার করুন

শান্তি আলোচনায় ব্যর্থ রাশিয়া-ইউক্রেন, তবে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে অগ্রগতি

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি শান্তি আলোচনা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে উভয় দেশ যুদ্ধবন্দি ও মৃতদেহ বিনিময়ে কিছুটা সমঝোতায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইউক্রেনীয় আলোচকরা দাবি করেছেন, রাশিয়া আবারও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেন এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোর দিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন  শান্তি আলোচনার মধ্যেই রক্তাক্ত লড়াই: ইউক্রেন-রাশিয়া হামলা-পাল্টা হামলায় হতাহতের মিছিল

যদিও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি, উভয় পক্ষ প্রায় ১২ হাজার মৃত সেনার মরদেহ বিনিময়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ ও গুরুতর আহত বন্দি এবং ২৫ বছরের নিচে যেসব সেনা যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক আছে, তাদেরও বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।

রাশিয়ান প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, তারা কিছু নির্দিষ্ট ফ্রন্ট লাইনে দুই বা তিন দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা পুরো যুদ্ধক্ষেত্রে বিরতি দিতে রাজি হয়নি।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ, যিনি কিয়েভের আলোচক দলের নেতৃত্ব দেন, এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা অন্তত ৩০ দিনের জন্য স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছি। রাশিয়ার কাছে এই প্রস্তাব কয়েকদিন আগেই হস্তান্তর করা হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বরং তারা শুধু ইস্তাম্বুলের বৈঠকে তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।”

এখনও পর্যন্ত দুই দেশের পক্ষ থেকেই কোনো যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম বৈঠক শেষ হওয়ার পর তাদের মূল দাবিগুলো প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম দাবি হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের চারটি আংশিকভাবে দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা।

উল্লেখ্য, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে সংযুক্ত দক্ষিণের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও তীব্র বিভাজন থাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে মানবিক ইস্যুতে সামান্য অগ্রগতি শান্তির সম্ভাবনার একটি ক্ষীণ আশার রেখা হয়ে রইল।