ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

শান্তি আলোচনায় ব্যর্থ রাশিয়া-ইউক্রেন, তবে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে অগ্রগতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / 409

ছবি সংগৃহীত

 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি শান্তি আলোচনা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে উভয় দেশ যুদ্ধবন্দি ও মৃতদেহ বিনিময়ে কিছুটা সমঝোতায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইউক্রেনীয় আলোচকরা দাবি করেছেন, রাশিয়া আবারও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেন এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোর দিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন  শান্তি আলোচনার মধ্যেই রক্তাক্ত লড়াই: ইউক্রেন-রাশিয়া হামলা-পাল্টা হামলায় হতাহতের মিছিল

যদিও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি, উভয় পক্ষ প্রায় ১২ হাজার মৃত সেনার মরদেহ বিনিময়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ ও গুরুতর আহত বন্দি এবং ২৫ বছরের নিচে যেসব সেনা যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক আছে, তাদেরও বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।

রাশিয়ান প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, তারা কিছু নির্দিষ্ট ফ্রন্ট লাইনে দুই বা তিন দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা পুরো যুদ্ধক্ষেত্রে বিরতি দিতে রাজি হয়নি।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ, যিনি কিয়েভের আলোচক দলের নেতৃত্ব দেন, এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা অন্তত ৩০ দিনের জন্য স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছি। রাশিয়ার কাছে এই প্রস্তাব কয়েকদিন আগেই হস্তান্তর করা হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বরং তারা শুধু ইস্তাম্বুলের বৈঠকে তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।”

এখনও পর্যন্ত দুই দেশের পক্ষ থেকেই কোনো যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম বৈঠক শেষ হওয়ার পর তাদের মূল দাবিগুলো প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম দাবি হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের চারটি আংশিকভাবে দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা।

উল্লেখ্য, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে সংযুক্ত দক্ষিণের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও তীব্র বিভাজন থাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে মানবিক ইস্যুতে সামান্য অগ্রগতি শান্তির সম্ভাবনার একটি ক্ষীণ আশার রেখা হয়ে রইল।

নিউজটি শেয়ার করুন

শান্তি আলোচনায় ব্যর্থ রাশিয়া-ইউক্রেন, তবে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে অগ্রগতি

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি শান্তি আলোচনা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে উভয় দেশ যুদ্ধবন্দি ও মৃতদেহ বিনিময়ে কিছুটা সমঝোতায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইউক্রেনীয় আলোচকরা দাবি করেছেন, রাশিয়া আবারও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেন এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোর দিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন  শান্তি আলোচনার মধ্যেই রক্তাক্ত লড়াই: ইউক্রেন-রাশিয়া হামলা-পাল্টা হামলায় হতাহতের মিছিল

যদিও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি, উভয় পক্ষ প্রায় ১২ হাজার মৃত সেনার মরদেহ বিনিময়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ ও গুরুতর আহত বন্দি এবং ২৫ বছরের নিচে যেসব সেনা যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক আছে, তাদেরও বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।

রাশিয়ান প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, তারা কিছু নির্দিষ্ট ফ্রন্ট লাইনে দুই বা তিন দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা পুরো যুদ্ধক্ষেত্রে বিরতি দিতে রাজি হয়নি।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ, যিনি কিয়েভের আলোচক দলের নেতৃত্ব দেন, এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা অন্তত ৩০ দিনের জন্য স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছি। রাশিয়ার কাছে এই প্রস্তাব কয়েকদিন আগেই হস্তান্তর করা হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বরং তারা শুধু ইস্তাম্বুলের বৈঠকে তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।”

এখনও পর্যন্ত দুই দেশের পক্ষ থেকেই কোনো যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম বৈঠক শেষ হওয়ার পর তাদের মূল দাবিগুলো প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম দাবি হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের চারটি আংশিকভাবে দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা।

উল্লেখ্য, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে সংযুক্ত দক্ষিণের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও তীব্র বিভাজন থাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে মানবিক ইস্যুতে সামান্য অগ্রগতি শান্তির সম্ভাবনার একটি ক্ষীণ আশার রেখা হয়ে রইল।