ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে

আইসিসি’র জেলে থেকেও নির্বাচনী জয়, আবারও ফিলিপাইনের মেয়র রদ্রিগো দুতের্তে

ফিলিপাইন, নির্বাচন, আইসিসি, মেয়র
  • আপডেট সময় ১২:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 404

ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) হেফাজতে থাকা ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে তার নিজ শহর দাভাওয়ের মেয়র পদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। সোমবার (১৩ মে) ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনার ৮০ শতাংশ শেষে দেখা যায়, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় তিনি প্রায় আট গুণ বেশি ভোট পেয়েছেন।

৮০ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এক সময় মাদকের বিরুদ্ধে তার কড়া অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হলেও দাভাও শহরে এখনো অপরাধ দমনকারী নেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। ভক্তদের কাছে তিনি পরিচিত ‘দুতের্তে হ্যারি’ ও ‘দ্য পানিশার’ নামে।

দুতের্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। মার্চ মাসে আইসিসির অনুরোধে ফিলিপাইন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে, যা তার সমর্থকদের মতে ‘বিদেশি আদালতের নির্দেশে অপহরণ’। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দুতের্তে হতে পারেন প্রথম কোনো এশীয় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি আইসিসিতে বিচারপ্রাপ্ত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন  বোরকাপড়া নারীদের ভোটকেন্দ্রে মুখ দেখাতে হবে: ইসি

উল্লেখযোগ্যভাবে, ফিলিপাইন ২০১৯ সালে আইসিসির রোম সংবিধি থেকে সরে গেলেও আদালতের দাবি, দুতের্তের মেয়র থাকাকালীন সময়ে সংঘটিত অপরাধগুলো তদন্তের অধিকার তাদের রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দাভাও শহরে ‘ডেথ স্কোয়াড’ পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছেন, যদিও দুতের্তে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাগুলো বরং তার এবং তার পরিবারের প্রতি জনগণের সমর্থন আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এবারের নির্বাচনে তার দুই ছেলেও বিজয়ের পথে রয়েছেন। একজন পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন কংগ্রেস সদস্য হিসেবে, অন্যজন ভাইস-মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং পিতার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে দুতের্তে পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বর্তমান ভাইস-প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের ঘিরে। তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে তার রাজনৈতিক জীবন চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় দাভাওতে দুতের্তের জয়কে সমর্থকরা রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও জনপ্রিয়তার পুনরুত্থান হিসেবে দেখছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আইসিসি’র জেলে থেকেও নির্বাচনী জয়, আবারও ফিলিপাইনের মেয়র রদ্রিগো দুতের্তে

আপডেট সময় ১২:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) হেফাজতে থাকা ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে তার নিজ শহর দাভাওয়ের মেয়র পদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। সোমবার (১৩ মে) ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনার ৮০ শতাংশ শেষে দেখা যায়, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় তিনি প্রায় আট গুণ বেশি ভোট পেয়েছেন।

৮০ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এক সময় মাদকের বিরুদ্ধে তার কড়া অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হলেও দাভাও শহরে এখনো অপরাধ দমনকারী নেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। ভক্তদের কাছে তিনি পরিচিত ‘দুতের্তে হ্যারি’ ও ‘দ্য পানিশার’ নামে।

দুতের্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। মার্চ মাসে আইসিসির অনুরোধে ফিলিপাইন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে, যা তার সমর্থকদের মতে ‘বিদেশি আদালতের নির্দেশে অপহরণ’। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দুতের্তে হতে পারেন প্রথম কোনো এশীয় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি আইসিসিতে বিচারপ্রাপ্ত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন  স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন

উল্লেখযোগ্যভাবে, ফিলিপাইন ২০১৯ সালে আইসিসির রোম সংবিধি থেকে সরে গেলেও আদালতের দাবি, দুতের্তের মেয়র থাকাকালীন সময়ে সংঘটিত অপরাধগুলো তদন্তের অধিকার তাদের রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দাভাও শহরে ‘ডেথ স্কোয়াড’ পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছেন, যদিও দুতের্তে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাগুলো বরং তার এবং তার পরিবারের প্রতি জনগণের সমর্থন আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এবারের নির্বাচনে তার দুই ছেলেও বিজয়ের পথে রয়েছেন। একজন পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন কংগ্রেস সদস্য হিসেবে, অন্যজন ভাইস-মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং পিতার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে দুতের্তে পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বর্তমান ভাইস-প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের ঘিরে। তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে তার রাজনৈতিক জীবন চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় দাভাওতে দুতের্তের জয়কে সমর্থকরা রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও জনপ্রিয়তার পুনরুত্থান হিসেবে দেখছেন।