ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী পুতিন, ইউক্রেনকে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 112

ছবি সংগৃহীত

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ১৫ মে থেকেই এ আলোচনা শুরু করা সম্ভব। শনিবার গভীর রাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের সঙ্গে একটি গুরুতর আলোচনা করতে প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সংঘাতের মূল কারণ সমাধান করা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ইউরোপীয় নেতাদের একটি ঐতিহাসিক সফরের পরপরই পুতিন এই প্রস্তাব দেন। প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের মাটিতে একসঙ্গে উপস্থিত হন ইউরোপের চার প্রধান দেশের শীর্ষ নেতারা। কিয়েভে দাঁড়িয়ে তারা রুশ প্রেসিডেন্টকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—সোমবারের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ না হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে এবং সামরিক সহায়তা আরও বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ক: ট্রাম্প কি আত্মসমর্পণে বাধ্য করছেন? সিদ্ধান্তে নতুন টানাপড়েন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে একসঙ্গে ফোন করেন ইউরোপীয় নেতারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেন পরিস্থিতি সম্পর্কে। পরে এক সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ—সবকিছুই। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, রাশিয়া যদি এ সুযোগ গ্রহণ না করে, তবে ব্যাংক ও জ্বালানি খাতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন বলেন, মস্কো যদি আলোচনার পথে না আসে, তবে ইউরোপ কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস সতর্ক করে দেন, পুতিন যদি আলোচনায় না আসেন, তাহলে ইউক্রেনকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা শুধু বজায় থাকবে না, বরং আরও বাড়ানো হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরাসরি আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে আলোচনার দরজা খুলবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বের শান্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়া।

সব মিলিয়ে পুতিনের প্রস্তাবকে ঘিরে বিশ্ববাসী নতুন করে আশার আলো দেখলেও, ইউরোপীয় নেতাদের কড়া অবস্থান এই সংকট সমাধানে সময়সীমার চাপ তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী পুতিন, ইউক্রেনকে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব

আপডেট সময় ১১:০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ১৫ মে থেকেই এ আলোচনা শুরু করা সম্ভব। শনিবার গভীর রাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের সঙ্গে একটি গুরুতর আলোচনা করতে প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সংঘাতের মূল কারণ সমাধান করা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ইউরোপীয় নেতাদের একটি ঐতিহাসিক সফরের পরপরই পুতিন এই প্রস্তাব দেন। প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের মাটিতে একসঙ্গে উপস্থিত হন ইউরোপের চার প্রধান দেশের শীর্ষ নেতারা। কিয়েভে দাঁড়িয়ে তারা রুশ প্রেসিডেন্টকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—সোমবারের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ না হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে এবং সামরিক সহায়তা আরও বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি: নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে একসঙ্গে ফোন করেন ইউরোপীয় নেতারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেন পরিস্থিতি সম্পর্কে। পরে এক সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ—সবকিছুই। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, রাশিয়া যদি এ সুযোগ গ্রহণ না করে, তবে ব্যাংক ও জ্বালানি খাতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন বলেন, মস্কো যদি আলোচনার পথে না আসে, তবে ইউরোপ কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস সতর্ক করে দেন, পুতিন যদি আলোচনায় না আসেন, তাহলে ইউক্রেনকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা শুধু বজায় থাকবে না, বরং আরও বাড়ানো হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরাসরি আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে আলোচনার দরজা খুলবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বের শান্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়া।

সব মিলিয়ে পুতিনের প্রস্তাবকে ঘিরে বিশ্ববাসী নতুন করে আশার আলো দেখলেও, ইউরোপীয় নেতাদের কড়া অবস্থান এই সংকট সমাধানে সময়সীমার চাপ তৈরি করেছে।