ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

রূপগঞ্জে ফসলি জমি কেটে বালুভরাট, প্রতিবাদে মানববন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • / 1292

ছবি সংগৃহীত

 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। জমির মালিকদের অনুমতি বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই পাকা ধানসহ ফসলি জমিতে ড্রেজার ও ভেকু মেশিন ব্যবহার করে রাতারাতি বালু ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার (৭ মে) দুপুরে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির মালিকরা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। নানা দাবি সম্বলিত ফেস্টুন, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কিছু আইনজীবীও।

আরও পড়ুন  গুলশানে বন্ধ ব্যাটারি রিকশা, প্রতিবাদে চালকদের মিছিল

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা জানান, কায়েতপাড়ার কয়েকটি গ্রামে ‘আবাসন প্রকল্প’-এর নামে জমি না কিনেই প্রভাবশালী মহল বেআইনিভাবে কৃষি জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত। ফসল কেটে নেয়ার সুযোগ না দিয়েই তারা রাতের আঁধারে জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু ভরাট করছে। এমনকি গ্রামের খেলার মাঠ ও চলাচলের রাস্তাও দখল করে নেয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আট হাজার হেক্টর জমিতে লাল পতাকা টানিয়ে দখল নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। সন্ত্রাসী বাহিনীর পাহারায় ভেকু দিয়ে জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের কাজও চলছে। এতে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দখলের প্রতিবাদ করায় ভূমিদস্যুরা ভুক্তভোগী কৃষক ও জমির মালিকদের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

বক্তারা আরও জানান, অবিলম্বে ফসলি জমি দখল ও বালুভরাট বন্ধ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কৃষকরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে নয় দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন তারা। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।

নিউজটি শেয়ার করুন

রূপগঞ্জে ফসলি জমি কেটে বালুভরাট, প্রতিবাদে মানববন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের

আপডেট সময় ০৬:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। জমির মালিকদের অনুমতি বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই পাকা ধানসহ ফসলি জমিতে ড্রেজার ও ভেকু মেশিন ব্যবহার করে রাতারাতি বালু ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার (৭ মে) দুপুরে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির মালিকরা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। নানা দাবি সম্বলিত ফেস্টুন, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কিছু আইনজীবীও।

আরও পড়ুন  রূপগঞ্জে পাইকারি আড়ত নিয়ে সংঘর্ষ, ৬ গুলিবিদ্ধসহ আহত ২৫

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা জানান, কায়েতপাড়ার কয়েকটি গ্রামে ‘আবাসন প্রকল্প’-এর নামে জমি না কিনেই প্রভাবশালী মহল বেআইনিভাবে কৃষি জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত। ফসল কেটে নেয়ার সুযোগ না দিয়েই তারা রাতের আঁধারে জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু ভরাট করছে। এমনকি গ্রামের খেলার মাঠ ও চলাচলের রাস্তাও দখল করে নেয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আট হাজার হেক্টর জমিতে লাল পতাকা টানিয়ে দখল নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। সন্ত্রাসী বাহিনীর পাহারায় ভেকু দিয়ে জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের কাজও চলছে। এতে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দখলের প্রতিবাদ করায় ভূমিদস্যুরা ভুক্তভোগী কৃষক ও জমির মালিকদের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

বক্তারা আরও জানান, অবিলম্বে ফসলি জমি দখল ও বালুভরাট বন্ধ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কৃষকরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে নয় দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন তারা। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।