ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে সহায়তাকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলকে সশস্ত্র বাহিনীর সংবর্ধনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 218

ছবি সংগৃহীত

মিয়ানমারে গত ২৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে সংঘটিত বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ৫৫ সদস্যের একটি উদ্ধার ও চিকিৎসা দল দ্রুত মিয়ানমারে প্রেরণ করা হয়। একইসঙ্গে, তিনটি ধাপে পাঁচটি বিমান ও একটি নৌযানের মাধ্যমে ১৫১.৫ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়, যার মধ্যে ছিল খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, তাঁবু, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও পোশাক।

মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দলের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত তিনটি ভবনের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করার দায়িত্ব অর্পণ করে। দলটি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে। একইসঙ্গে, নেপিডোর ৪৫টি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন, ক্লিনিক ও শপিং মলসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। নেপিডো সেন্ট্রাল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে যৌথ উদ্ধার তৎপরতার জন্য বাংলাদেশ দল একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করে, যার ভিত্তিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ পরবর্তী উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।

এছাড়াও, বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমটি মিয়ানমারে অবস্থানকালে ১৭টি জটিল অস্ত্রোপচারসহ মোট ৮৮৫ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে বাংলাদেশ সম্পর্কে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আস্থার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন  সাতসকালে মৃদু কম্পনে কাঁপল দেশ; উৎপত্তিস্থল সিলেট সীমান্ত

সফল দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘বানৌজা সমুদ্র অভিযান’ জাহাজে করে দলটি ১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরে আসে। এ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, বিএসপি, এনডিসি, এইচডিএমসি, পিএসসি, পিএইচডি প্রত্যেক সদস্যকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

বাংলাদেশের এই মানবিক ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই সুদৃঢ় করবে না, বরং এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত সহানুভূতিরও পরিচায়ক। ভবিষ্যতেও দেশীয় বা আন্তর্জাতিক যেকোনো দুর্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে—এমনটাই জাতীয় অঙ্গীকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে সহায়তাকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলকে সশস্ত্র বাহিনীর সংবর্ধনা

আপডেট সময় ০১:১১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

মিয়ানমারে গত ২৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে সংঘটিত বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ৫৫ সদস্যের একটি উদ্ধার ও চিকিৎসা দল দ্রুত মিয়ানমারে প্রেরণ করা হয়। একইসঙ্গে, তিনটি ধাপে পাঁচটি বিমান ও একটি নৌযানের মাধ্যমে ১৫১.৫ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়, যার মধ্যে ছিল খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, তাঁবু, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও পোশাক।

মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দলের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত তিনটি ভবনের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করার দায়িত্ব অর্পণ করে। দলটি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে। একইসঙ্গে, নেপিডোর ৪৫টি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন, ক্লিনিক ও শপিং মলসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। নেপিডো সেন্ট্রাল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে যৌথ উদ্ধার তৎপরতার জন্য বাংলাদেশ দল একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করে, যার ভিত্তিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ পরবর্তী উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।

এছাড়াও, বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমটি মিয়ানমারে অবস্থানকালে ১৭টি জটিল অস্ত্রোপচারসহ মোট ৮৮৫ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে বাংলাদেশ সম্পর্কে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আস্থার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন  রাশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

সফল দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘বানৌজা সমুদ্র অভিযান’ জাহাজে করে দলটি ১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরে আসে। এ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, বিএসপি, এনডিসি, এইচডিএমসি, পিএসসি, পিএইচডি প্রত্যেক সদস্যকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

বাংলাদেশের এই মানবিক ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই সুদৃঢ় করবে না, বরং এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত সহানুভূতিরও পরিচায়ক। ভবিষ্যতেও দেশীয় বা আন্তর্জাতিক যেকোনো দুর্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে—এমনটাই জাতীয় অঙ্গীকার।