ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে সহায়তাকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলকে সশস্ত্র বাহিনীর সংবর্ধনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 405

ছবি সংগৃহীত

মিয়ানমারে গত ২৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে সংঘটিত বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ৫৫ সদস্যের একটি উদ্ধার ও চিকিৎসা দল দ্রুত মিয়ানমারে প্রেরণ করা হয়। একইসঙ্গে, তিনটি ধাপে পাঁচটি বিমান ও একটি নৌযানের মাধ্যমে ১৫১.৫ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়, যার মধ্যে ছিল খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, তাঁবু, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও পোশাক।

মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দলের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত তিনটি ভবনের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করার দায়িত্ব অর্পণ করে। দলটি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে। একইসঙ্গে, নেপিডোর ৪৫টি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন, ক্লিনিক ও শপিং মলসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। নেপিডো সেন্ট্রাল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে যৌথ উদ্ধার তৎপরতার জন্য বাংলাদেশ দল একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করে, যার ভিত্তিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ পরবর্তী উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।

এছাড়াও, বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমটি মিয়ানমারে অবস্থানকালে ১৭টি জটিল অস্ত্রোপচারসহ মোট ৮৮৫ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে বাংলাদেশ সম্পর্কে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আস্থার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন  রাজধানীতে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত

সফল দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘বানৌজা সমুদ্র অভিযান’ জাহাজে করে দলটি ১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরে আসে। এ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, বিএসপি, এনডিসি, এইচডিএমসি, পিএসসি, পিএইচডি প্রত্যেক সদস্যকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

বাংলাদেশের এই মানবিক ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই সুদৃঢ় করবে না, বরং এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত সহানুভূতিরও পরিচায়ক। ভবিষ্যতেও দেশীয় বা আন্তর্জাতিক যেকোনো দুর্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে—এমনটাই জাতীয় অঙ্গীকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে সহায়তাকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলকে সশস্ত্র বাহিনীর সংবর্ধনা

আপডেট সময় ০১:১১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

মিয়ানমারে গত ২৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে সংঘটিত বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ৫৫ সদস্যের একটি উদ্ধার ও চিকিৎসা দল দ্রুত মিয়ানমারে প্রেরণ করা হয়। একইসঙ্গে, তিনটি ধাপে পাঁচটি বিমান ও একটি নৌযানের মাধ্যমে ১৫১.৫ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়, যার মধ্যে ছিল খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, তাঁবু, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও পোশাক।

মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দলের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত তিনটি ভবনের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করার দায়িত্ব অর্পণ করে। দলটি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে। একইসঙ্গে, নেপিডোর ৪৫টি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন, ক্লিনিক ও শপিং মলসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। নেপিডো সেন্ট্রাল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে যৌথ উদ্ধার তৎপরতার জন্য বাংলাদেশ দল একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করে, যার ভিত্তিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ পরবর্তী উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।

এছাড়াও, বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমটি মিয়ানমারে অবস্থানকালে ১৭টি জটিল অস্ত্রোপচারসহ মোট ৮৮৫ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে বাংলাদেশ সম্পর্কে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আস্থার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন  মিয়ানমার পণ্য আমদানি করতে সরকারের পাশাপাশি আরাকান আর্মিকে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সফল দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘বানৌজা সমুদ্র অভিযান’ জাহাজে করে দলটি ১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরে আসে। এ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, বিএসপি, এনডিসি, এইচডিএমসি, পিএসসি, পিএইচডি প্রত্যেক সদস্যকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

বাংলাদেশের এই মানবিক ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই সুদৃঢ় করবে না, বরং এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত সহানুভূতিরও পরিচায়ক। ভবিষ্যতেও দেশীয় বা আন্তর্জাতিক যেকোনো দুর্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে—এমনটাই জাতীয় অঙ্গীকার।