ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা তহবিল বন্ধের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 303

ছবি সংগৃহীত

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্থ সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউস বাজেট অফিসের একটি গোপন নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মালি, লেবানন ও কঙ্গোর মতো দেশগুলোর শান্তিরক্ষা মিশনে বারবার ব্যর্থতা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। তারা জাতিসংঘের মোট মূল বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ এবং শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২৭ শতাংশ এককভাবে বহন করে থাকে। যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ও ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যতকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

বিশ্বের সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের নীল হেলমেট বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বড় অর্থদাতাদের এমন আচমকা সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক নয়, কূটনৈতিক ভাবেও জাতিসংঘের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

আরও পড়ুন  প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করলেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের একক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে সরে আসার ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতিসংঘ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তার দায় পুরো আন্তর্জাতিক সমাজকেই বহন করতে হবে।

যদিও এখনো এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এমন এক সময় এই পরিকল্পনা সামনে এলো যখন বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও শরণার্থী সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় শান্তিরক্ষা বাজেট বন্ধের উদ্যোগ শুধু জাতিসংঘ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব স্বার্থে গড়ে তোলা বৈশ্বিক নেতৃত্বের কাঠামো থেকে পিছিয়ে আসার এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন আত্মঘাতী, তেমনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার জন্যও একটি বড় ধাক্কা। বিশ্ব যেন নিজের সাজানো অবকাঠামো নিজেই ভেঙে ফেলছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা তহবিল বন্ধের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

আপডেট সময় ১১:৩৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্থ সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউস বাজেট অফিসের একটি গোপন নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মালি, লেবানন ও কঙ্গোর মতো দেশগুলোর শান্তিরক্ষা মিশনে বারবার ব্যর্থতা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। তারা জাতিসংঘের মোট মূল বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ এবং শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২৭ শতাংশ এককভাবে বহন করে থাকে। যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ও ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যতকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

বিশ্বের সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের নীল হেলমেট বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বড় অর্থদাতাদের এমন আচমকা সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক নয়, কূটনৈতিক ভাবেও জাতিসংঘের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত রিপোর্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের একক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে সরে আসার ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতিসংঘ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তার দায় পুরো আন্তর্জাতিক সমাজকেই বহন করতে হবে।

যদিও এখনো এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এমন এক সময় এই পরিকল্পনা সামনে এলো যখন বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও শরণার্থী সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় শান্তিরক্ষা বাজেট বন্ধের উদ্যোগ শুধু জাতিসংঘ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব স্বার্থে গড়ে তোলা বৈশ্বিক নেতৃত্বের কাঠামো থেকে পিছিয়ে আসার এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন আত্মঘাতী, তেমনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার জন্যও একটি বড় ধাক্কা। বিশ্ব যেন নিজের সাজানো অবকাঠামো নিজেই ভেঙে ফেলছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।