ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা তহবিল বন্ধের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 406

ছবি সংগৃহীত

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্থ সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউস বাজেট অফিসের একটি গোপন নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মালি, লেবানন ও কঙ্গোর মতো দেশগুলোর শান্তিরক্ষা মিশনে বারবার ব্যর্থতা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। তারা জাতিসংঘের মোট মূল বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ এবং শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২৭ শতাংশ এককভাবে বহন করে থাকে। যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ও ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যতকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

বিশ্বের সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের নীল হেলমেট বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বড় অর্থদাতাদের এমন আচমকা সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক নয়, কূটনৈতিক ভাবেও জাতিসংঘের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠক: গণতন্ত্র ও সমসাময়িক ইস্যুতে আলোচনা

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের একক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে সরে আসার ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতিসংঘ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তার দায় পুরো আন্তর্জাতিক সমাজকেই বহন করতে হবে।

যদিও এখনো এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এমন এক সময় এই পরিকল্পনা সামনে এলো যখন বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও শরণার্থী সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় শান্তিরক্ষা বাজেট বন্ধের উদ্যোগ শুধু জাতিসংঘ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব স্বার্থে গড়ে তোলা বৈশ্বিক নেতৃত্বের কাঠামো থেকে পিছিয়ে আসার এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন আত্মঘাতী, তেমনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার জন্যও একটি বড় ধাক্কা। বিশ্ব যেন নিজের সাজানো অবকাঠামো নিজেই ভেঙে ফেলছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা তহবিল বন্ধের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

আপডেট সময় ১১:৩৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্থ সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউস বাজেট অফিসের একটি গোপন নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মালি, লেবানন ও কঙ্গোর মতো দেশগুলোর শান্তিরক্ষা মিশনে বারবার ব্যর্থতা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। তারা জাতিসংঘের মোট মূল বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ এবং শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২৭ শতাংশ এককভাবে বহন করে থাকে। যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ও ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যতকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

বিশ্বের সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের নীল হেলমেট বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বড় অর্থদাতাদের এমন আচমকা সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক নয়, কূটনৈতিক ভাবেও জাতিসংঘের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের একক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে সরে আসার ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতিসংঘ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তার দায় পুরো আন্তর্জাতিক সমাজকেই বহন করতে হবে।

যদিও এখনো এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এমন এক সময় এই পরিকল্পনা সামনে এলো যখন বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও শরণার্থী সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় শান্তিরক্ষা বাজেট বন্ধের উদ্যোগ শুধু জাতিসংঘ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব স্বার্থে গড়ে তোলা বৈশ্বিক নেতৃত্বের কাঠামো থেকে পিছিয়ে আসার এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন আত্মঘাতী, তেমনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার জন্যও একটি বড় ধাক্কা। বিশ্ব যেন নিজের সাজানো অবকাঠামো নিজেই ভেঙে ফেলছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।