ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ঢাকায়

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা তহবিল বন্ধের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 544

ছবি সংগৃহীত

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্থ সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউস বাজেট অফিসের একটি গোপন নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মালি, লেবানন ও কঙ্গোর মতো দেশগুলোর শান্তিরক্ষা মিশনে বারবার ব্যর্থতা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। তারা জাতিসংঘের মোট মূল বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ এবং শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২৭ শতাংশ এককভাবে বহন করে থাকে। যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ও ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যতকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

বিশ্বের সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের নীল হেলমেট বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বড় অর্থদাতাদের এমন আচমকা সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক নয়, কূটনৈতিক ভাবেও জাতিসংঘের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

আরও পড়ুন  ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের একক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে সরে আসার ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতিসংঘ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তার দায় পুরো আন্তর্জাতিক সমাজকেই বহন করতে হবে।

যদিও এখনো এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এমন এক সময় এই পরিকল্পনা সামনে এলো যখন বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও শরণার্থী সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় শান্তিরক্ষা বাজেট বন্ধের উদ্যোগ শুধু জাতিসংঘ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব স্বার্থে গড়ে তোলা বৈশ্বিক নেতৃত্বের কাঠামো থেকে পিছিয়ে আসার এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন আত্মঘাতী, তেমনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার জন্যও একটি বড় ধাক্কা। বিশ্ব যেন নিজের সাজানো অবকাঠামো নিজেই ভেঙে ফেলছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা তহবিল বন্ধের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

আপডেট সময় ১১:৩৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্থ সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউস বাজেট অফিসের একটি গোপন নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মালি, লেবানন ও কঙ্গোর মতো দেশগুলোর শান্তিরক্ষা মিশনে বারবার ব্যর্থতা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। তারা জাতিসংঘের মোট মূল বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ এবং শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২৭ শতাংশ এককভাবে বহন করে থাকে। যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ও ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যতকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

বিশ্বের সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের নীল হেলমেট বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বড় অর্থদাতাদের এমন আচমকা সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক নয়, কূটনৈতিক ভাবেও জাতিসংঘের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ জাতিসংঘের

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের একক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে সরে আসার ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতিসংঘ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তার দায় পুরো আন্তর্জাতিক সমাজকেই বহন করতে হবে।

যদিও এখনো এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এমন এক সময় এই পরিকল্পনা সামনে এলো যখন বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও শরণার্থী সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় শান্তিরক্ষা বাজেট বন্ধের উদ্যোগ শুধু জাতিসংঘ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব স্বার্থে গড়ে তোলা বৈশ্বিক নেতৃত্বের কাঠামো থেকে পিছিয়ে আসার এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন আত্মঘাতী, তেমনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার জন্যও একটি বড় ধাক্কা। বিশ্ব যেন নিজের সাজানো অবকাঠামো নিজেই ভেঙে ফেলছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।