ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

আগাম ফলনে খুশি, দাম না পেয়ে চিন্তায় খাগড়াছড়ির আনারস চাষিরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 503

ছবি সংগৃহীত

 

 

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি ঢালে সোনালী রঙে রোদ মেখে পাকতে শুরু করেছে হানিকুইন জাতের আনারস। আগাম ফলনে আশাবাদী মুখ নিয়ে মাঠে নামলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তার ছায়া পড়েছে কৃষকের কপালে।

আরও পড়ুন  টক-মিষ্টি তেঁতুল: পাহাড়ের অর্থনীতির নতুন দিগন্ত, স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন

জেলার খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি ও গুইমারা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আনারসের আবাদ হয়। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন হয়েছে চমৎকার। হরমোন প্রযুক্তি ব্যবহারে সারা বছরই হানিকুইন জাতের আনারস ফলানো সম্ভব হচ্ছে, যার সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা। তবে বিপণন সংকটে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের স্বপ্ন।

চাষিরা জানান, একটি আনারস উৎপাদনে খরচ পড়ে ৫ থেকে ৭ টাকা। কিন্তু বাজারে সাইজভেদে তা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে। রোজার আগে বিপুল পরিমাণ আনারস বাগানে থাকলেও পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাবে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকেই এখন আগাম ফল বিক্রিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরাও বলছেন, আনারসের ফলন ভালো হলেও পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সমস্যা থাকায় লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। আনারস পেকে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কম দামে বাগান থেকেই বিক্রি করে দিচ্ছেন চাষিরা।

এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, পাহাড়ে পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক চাষ হিসেবে আনারসের প্রসার ঘটছে দ্রুত। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলম জানান, বিকল্প চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে এ বছর ২০০ জন চাষিকে সরবরাহ করা হয়েছে সাড়ে চার লাখ আনারসের চারা। প্রত্যেকে পেয়েছেন ২,২৫০টি করে চারা।

তিনি জানান, এবছর জেলায় ১৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে হানিকুইন জাতের আনারস চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ হাজার মেট্রিক টন। আশা করা হচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে।

তবে এ সফলতার স্থায়িত্ব পেতে হলে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করতেই হবে এমনটাই মত চাষিদের। তাদের প্রশ্ন, “ফলন ভালো হলে কী হবে, যদি ফলের ন্যায্য দামই না পাই?”

নিউজটি শেয়ার করুন

আগাম ফলনে খুশি, দাম না পেয়ে চিন্তায় খাগড়াছড়ির আনারস চাষিরা

আপডেট সময় ০১:০২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫

 

 

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি ঢালে সোনালী রঙে রোদ মেখে পাকতে শুরু করেছে হানিকুইন জাতের আনারস। আগাম ফলনে আশাবাদী মুখ নিয়ে মাঠে নামলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তার ছায়া পড়েছে কৃষকের কপালে।

আরও পড়ুন  খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সহিংসতা সম্পর্কে সেনাবাহিনীর বিবৃতি

জেলার খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি ও গুইমারা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আনারসের আবাদ হয়। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন হয়েছে চমৎকার। হরমোন প্রযুক্তি ব্যবহারে সারা বছরই হানিকুইন জাতের আনারস ফলানো সম্ভব হচ্ছে, যার সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা। তবে বিপণন সংকটে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের স্বপ্ন।

চাষিরা জানান, একটি আনারস উৎপাদনে খরচ পড়ে ৫ থেকে ৭ টাকা। কিন্তু বাজারে সাইজভেদে তা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে। রোজার আগে বিপুল পরিমাণ আনারস বাগানে থাকলেও পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাবে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকেই এখন আগাম ফল বিক্রিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরাও বলছেন, আনারসের ফলন ভালো হলেও পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সমস্যা থাকায় লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। আনারস পেকে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কম দামে বাগান থেকেই বিক্রি করে দিচ্ছেন চাষিরা।

এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, পাহাড়ে পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক চাষ হিসেবে আনারসের প্রসার ঘটছে দ্রুত। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলম জানান, বিকল্প চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে এ বছর ২০০ জন চাষিকে সরবরাহ করা হয়েছে সাড়ে চার লাখ আনারসের চারা। প্রত্যেকে পেয়েছেন ২,২৫০টি করে চারা।

তিনি জানান, এবছর জেলায় ১৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে হানিকুইন জাতের আনারস চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ হাজার মেট্রিক টন। আশা করা হচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে।

তবে এ সফলতার স্থায়িত্ব পেতে হলে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করতেই হবে এমনটাই মত চাষিদের। তাদের প্রশ্ন, “ফলন ভালো হলে কী হবে, যদি ফলের ন্যায্য দামই না পাই?”