ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

শিল্প-সাহিত্যে রাজনীতিবীকরণ সভ্য সমাজের কাজ নয়: প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 182

ছবি সংগৃহীত

 

উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কোনো সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  গাজার নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল বারহুম ইসরায়েলি হামলায় নিহত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা-গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় দেশ যাতে এগিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যেই নৈতিক মানসম্পন্ন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করছে। আমাদের এই যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিকনির্দেশনা অবশ্যই প্রত্যাশিত।”

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদেরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও জ্ঞানীগুণীজন সমাজকে পথ দেখান। একটি রাষ্ট্রে কৃতী মানুষের সংখ্যা যত বাড়ে, সেই সমাজ তত বেশি সমৃদ্ধ ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়। এ কারণেই রাষ্ট্র নিজ প্রয়োজনেই জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা দিয়ে থাকে।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি শুধু একটি পদক নয়, বরং ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহকে স্মরণ করার একটি মাধ্যম। একই সঙ্গে শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যাঁরা রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে জনগণের পরিচয় ঘটায় এই সম্মাননা।

তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে একুশে পদকের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এটিকে তিনি একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জ্ঞান-বিজ্ঞান কিংবা সাহিত্যচর্চার ধারা আরও শানিত ও বিকশিত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্যের চর্চা বেগবান করতে রাষ্ট্র ও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।”

জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। আমাদের চেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্ব সাহিত্যের অঙ্গনে আলো ছড়াবে—এমন গর্বিত দিনের প্রত্যাশা করছি।”

একুশে পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের আন্দোলন। ফেব্রুয়ারি মানেই আমাদের আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস, শিকড় সন্ধানের মাস।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ জন গুণী ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ডকে একুশে পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিল্প-সাহিত্যে রাজনীতিবীকরণ সভ্য সমাজের কাজ নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কোনো সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  আজ তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দী দিবস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা-গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় দেশ যাতে এগিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যেই নৈতিক মানসম্পন্ন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করছে। আমাদের এই যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিকনির্দেশনা অবশ্যই প্রত্যাশিত।”

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদেরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও জ্ঞানীগুণীজন সমাজকে পথ দেখান। একটি রাষ্ট্রে কৃতী মানুষের সংখ্যা যত বাড়ে, সেই সমাজ তত বেশি সমৃদ্ধ ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়। এ কারণেই রাষ্ট্র নিজ প্রয়োজনেই জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা দিয়ে থাকে।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি শুধু একটি পদক নয়, বরং ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহকে স্মরণ করার একটি মাধ্যম। একই সঙ্গে শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যাঁরা রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে জনগণের পরিচয় ঘটায় এই সম্মাননা।

তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে একুশে পদকের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এটিকে তিনি একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জ্ঞান-বিজ্ঞান কিংবা সাহিত্যচর্চার ধারা আরও শানিত ও বিকশিত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্যের চর্চা বেগবান করতে রাষ্ট্র ও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।”

জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। আমাদের চেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্ব সাহিত্যের অঙ্গনে আলো ছড়াবে—এমন গর্বিত দিনের প্রত্যাশা করছি।”

একুশে পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের আন্দোলন। ফেব্রুয়ারি মানেই আমাদের আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস, শিকড় সন্ধানের মাস।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ জন গুণী ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ডকে একুশে পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমান।