ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

গাজিয়াবাদে ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে ৩ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 1279

ছবি: খবরের কথা

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে অনলাইন গেমের নেশায় আসক্ত হয়ে একই পরিবারের তিন বোনের আত্মহত্যার এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে একটি আবাসিক সোসাইটির ৯ তলা ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে তারা জীবন দেয়। নিহত বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) তিনজনেই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোরে যখন এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে, তখন সোসাইটির অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমে ছিলেন। হঠাৎ ওপর থেকে নিচে পড়ার বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায় এবং তারা তিন কিশোরীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা নিজেদের ঘরটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে দিয়েছিল। তাদের পরিবার যখন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, ততক্ষণে তারা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে।

তদন্তে জানা গেছে, নিহত তিন বোন একটি নির্দিষ্ট কোরিয়ান গেমে প্রচণ্ডভাবে আসক্ত ছিল। মূলত করোনা মহামারির সময় থেকে অনলাইনে সময় কাটাতে গিয়ে তারা এই মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ে। গেমের আসক্তি তাদের জীবনে এমন প্রভাব ফেলেছিল যে তারা নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল এবং নিজেদের জন্য আলাদা ‘কোরিয়ান নাম’ও ঠিক করেছিল। তাদের দৈনন্দিন আচরণেও এক অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল; তারা খাওয়া, গোসল, ঘুমানো কিংবা বাইরে যাওয়া—সবকিছুই সব সময় একসঙ্গেই করত।

আরও পড়ুন  কক্সবাজারে পৃথক স্থানে পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

দীর্ঘদিন ধরে গেমের প্রতি এই নেশা এবং পড়াশোনায় অমনোযোগ নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলত। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ থেকেই তারা এমন চরম পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে কান্নার ইমোজি এঁকে বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে শুধু লেখা ছিল ‘দুঃখিত’। পুলিশ বর্তমানে তাদের ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে দেখছে যে এই গেমের পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা ছিল কি না।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজিয়াবাদে ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে ৩ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় ০২:০৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে অনলাইন গেমের নেশায় আসক্ত হয়ে একই পরিবারের তিন বোনের আত্মহত্যার এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে একটি আবাসিক সোসাইটির ৯ তলা ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে তারা জীবন দেয়। নিহত বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) তিনজনেই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোরে যখন এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে, তখন সোসাইটির অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমে ছিলেন। হঠাৎ ওপর থেকে নিচে পড়ার বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায় এবং তারা তিন কিশোরীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা নিজেদের ঘরটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে দিয়েছিল। তাদের পরিবার যখন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, ততক্ষণে তারা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে।

তদন্তে জানা গেছে, নিহত তিন বোন একটি নির্দিষ্ট কোরিয়ান গেমে প্রচণ্ডভাবে আসক্ত ছিল। মূলত করোনা মহামারির সময় থেকে অনলাইনে সময় কাটাতে গিয়ে তারা এই মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ে। গেমের আসক্তি তাদের জীবনে এমন প্রভাব ফেলেছিল যে তারা নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল এবং নিজেদের জন্য আলাদা ‘কোরিয়ান নাম’ও ঠিক করেছিল। তাদের দৈনন্দিন আচরণেও এক অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল; তারা খাওয়া, গোসল, ঘুমানো কিংবা বাইরে যাওয়া—সবকিছুই সব সময় একসঙ্গেই করত।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দীর্ঘদিন ধরে গেমের প্রতি এই নেশা এবং পড়াশোনায় অমনোযোগ নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলত। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ থেকেই তারা এমন চরম পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে কান্নার ইমোজি এঁকে বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে শুধু লেখা ছিল ‘দুঃখিত’। পুলিশ বর্তমানে তাদের ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে দেখছে যে এই গেমের পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা ছিল কি না।