ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

মিসরে মিনিবাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৯ শ্রমিকের মৃত্যু, বেশিরভাগই কিশোরী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • / 533

ছবি: সংগৃহীত

মিসরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাজধানী কায়রোর উত্তরে মেনুফিয়ার আশমাউন শহরের একটি আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিক বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই কিশোরী শ্রমিক বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকরা ভোরে কাজে যাচ্ছিলেন। সরকারি সংবাদপত্র আখবার আল-ইয়ুম জানায়, মিনিবাসটি কাফর আল-সানাবসা গ্রাম থেকে শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনই ট্রাকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। রাষ্ট্রীয় দৈনিক আল-আহরামে প্রকাশিত নিহতদের নাম-তালিকা অনুযায়ী, বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, যাদের মধ্যে দুজনের বয়স মাত্র ১৪ বছর।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, মিসরে প্রায় ১৩ লাখ শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে, এবং গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই মিনিবাসে তারা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের শিকার হয়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। শুক্রবারের এ দুর্ঘটনায় মাত্র তিনজন শ্রমিক প্রাণে বেঁচে গেছেন, যাদের জেনারেল আশমাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে মিসরের শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পূর্ববিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪ হাজার ডলার) এবং আহতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪০০ ডলার) করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মিসরের শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ জেবরান।

মেনুফিয়া প্রাদেশিক গভর্নর ইব্রাহিম আবু লেইমন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতিই এই দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ। তিনি দেশের পরিবহন মন্ত্রণালয়কে আঞ্চলিক সড়কগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এপ্রিল মাসেই একই রাস্তায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষে একটি পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।

মিসরে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। গত বছর অক্টোবরেও কায়রো-আলেকজান্দ্রিয়া মরুভূমি সড়কে একটি বাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়ির সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত হন, যাদের ১৮ জনই আগুনে পুড়ে মারা যান।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

মিসরে মিনিবাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৯ শ্রমিকের মৃত্যু, বেশিরভাগই কিশোরী

আপডেট সময় ১২:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

মিসরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাজধানী কায়রোর উত্তরে মেনুফিয়ার আশমাউন শহরের একটি আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিক বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই কিশোরী শ্রমিক বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকরা ভোরে কাজে যাচ্ছিলেন। সরকারি সংবাদপত্র আখবার আল-ইয়ুম জানায়, মিনিবাসটি কাফর আল-সানাবসা গ্রাম থেকে শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনই ট্রাকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। রাষ্ট্রীয় দৈনিক আল-আহরামে প্রকাশিত নিহতদের নাম-তালিকা অনুযায়ী, বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, যাদের মধ্যে দুজনের বয়স মাত্র ১৪ বছর।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, মিসরে প্রায় ১৩ লাখ শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে, এবং গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই মিনিবাসে তারা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের শিকার হয়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। শুক্রবারের এ দুর্ঘটনায় মাত্র তিনজন শ্রমিক প্রাণে বেঁচে গেছেন, যাদের জেনারেল আশমাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে মিসরের শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০

দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪ হাজার ডলার) এবং আহতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪০০ ডলার) করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মিসরের শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ জেবরান।

মেনুফিয়া প্রাদেশিক গভর্নর ইব্রাহিম আবু লেইমন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতিই এই দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ। তিনি দেশের পরিবহন মন্ত্রণালয়কে আঞ্চলিক সড়কগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এপ্রিল মাসেই একই রাস্তায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষে একটি পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।

মিসরে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। গত বছর অক্টোবরেও কায়রো-আলেকজান্দ্রিয়া মরুভূমি সড়কে একটি বাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়ির সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত হন, যাদের ১৮ জনই আগুনে পুড়ে মারা যান।

সূত্র: রয়টার্স