ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
মাদক মামলার বিচার দ্রুত করতে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন আমাদের বোমায় নারী-শিশু নিহত হচ্ছে, ট্রাম্পের সমালোচনায় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জনস্বার্থের প্রকল্পে নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার: অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন, রাজপথে হুমকি নয়: রিজভী ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকায় ৮০ জনের বেশি নিহত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু জেন-জিদের পর এবার শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ভারতে জেন-আলফার বিক্ষোভ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে

কক্সবাজারে ১২ হাজার একর বনভূমি ফেরত পাচ্ছে বন বিভাগ: পরিবেশ উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 388

ছবি: সংগৃহীত

 

কক্সবাজারের নদী, বন ও সি-বিচ দখলমুক্ত করতে সরকারের উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, কক্সবাজারে বিভিন্ন সংস্থার নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ১২ হাজার একর বনভূমি বন বিভাগের আওতায় ফেরত আনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার শহরের বাকখালী নদীর তীরে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, “কক্সবাজারের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই নদী, বন বা সমুদ্র সৈকত দখল ও দূষণের সুযোগ দেওয়া হবে না।”

আরও পড়ুন  কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অভিযানে ২০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার, আটক ৬

তিনি আরও জানান, কক্সবাজারের ৭০০ একর বনভূমি ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এক ব্যক্তি ১৫০ একর বনভূমিতে অবৈধভাবে বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফুটবল একাডেমির নামে বরাদ্দ পাওয়া ২০ একর জমিও ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

উপদেষ্টা বলেন, “পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। যারা বিধি লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেলা প্রশাসককে ৫১ একর জমি উদ্ধার করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সোনাদিয়া দ্বীপে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) জন্য বরাদ্দ পাওয়া জমিও বন বিভাগের আওতায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “সি-বিচ দখল ও দূষণের লাগাম এখনই টানতে না পারলে এটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাবে। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাজমুল আহসান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন, চট্টগ্রাম বন সার্কেলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম এবং কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ।

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবং বনভূমি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে ১২ হাজার একর বনভূমি ফেরত পাচ্ছে বন বিভাগ: পরিবেশ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

 

কক্সবাজারের নদী, বন ও সি-বিচ দখলমুক্ত করতে সরকারের উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, কক্সবাজারে বিভিন্ন সংস্থার নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ১২ হাজার একর বনভূমি বন বিভাগের আওতায় ফেরত আনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার শহরের বাকখালী নদীর তীরে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, “কক্সবাজারের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই নদী, বন বা সমুদ্র সৈকত দখল ও দূষণের সুযোগ দেওয়া হবে না।”

আরও পড়ুন  কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অভিযানে ২০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার, আটক ৬

তিনি আরও জানান, কক্সবাজারের ৭০০ একর বনভূমি ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এক ব্যক্তি ১৫০ একর বনভূমিতে অবৈধভাবে বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফুটবল একাডেমির নামে বরাদ্দ পাওয়া ২০ একর জমিও ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

উপদেষ্টা বলেন, “পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। যারা বিধি লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেলা প্রশাসককে ৫১ একর জমি উদ্ধার করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সোনাদিয়া দ্বীপে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) জন্য বরাদ্দ পাওয়া জমিও বন বিভাগের আওতায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “সি-বিচ দখল ও দূষণের লাগাম এখনই টানতে না পারলে এটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাবে। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাজমুল আহসান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন, চট্টগ্রাম বন সার্কেলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম এবং কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ।

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবং বনভূমি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।