ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 23

ছবি সংগৃহীত

 

শিশুদের ভেতরের সম্ভাবনা ও মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা গেলে দেশের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও শিশুদের সঠিক বিকাশের সঙ্গে জড়িত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আয়োজনটি মূলত শিশুদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত এ অনুষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনি নিজেও সেখানে এক খুদে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন। একসময় শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তার ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত স্মারক বোর্ডে নিজের গল্প ও ভাইয়ের লেখা দেখে পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিশুদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে পড়ার কথা বলব না। তোমাদের আজকে বলব তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো বিশেষ গুণ বা প্রতিভা রয়েছে। কেউ ছবি আঁকে, কেউ আবৃত্তি করে, আবার কেউ গান, নাচ কিংবা বাদ্যযন্ত্রে আগ্রহী। নিজের কিবোর্ড ও গিটার শেখার সুপ্ত আগ্রহের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাদ্যযন্ত্র, সংগীত, নাচ কিংবা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত—যে বিষয়ে যার আগ্রহ, সেটি মনোযোগ দিয়ে শেখা ও দক্ষতার সঙ্গে রপ্ত করা উচিত।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক পর্যায়ের ২২ লাখ শিশু—১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে—ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এসব আয়োজন থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নতুন উদ্যমে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। সিলেট থেকে শুরু হয়ে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত এসব আয়োজন শিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি খেলাধুলায়ও দক্ষ করে তুলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি শিশু যাতে সমান সুযোগ পায়, সে জন্য সরকারি স্কুলগুলোতে প্রয়োজনীয় সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ বা ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র কিংবা খেলাধুলার বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশের শিশুদের আরও এগিয়ে নিতে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষার মধ্য থেকে একটি বেছে শেখার সুযোগ পাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে তারা বাড়তি যোগ্যতা অর্জন করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিশুদের মানবিক হতে হবে। দেশের প্রকৃতি, পশুপাখির প্রতিও তাদের দরদী ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

বাড়ি, বিদ্যালয় ও আশপাশের গাছপালার যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পশুপাখির প্রতি সদয় আচরণের অভ্যাস গড়ে তুলে একটি সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণে শিশুদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০১:২০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

 

শিশুদের ভেতরের সম্ভাবনা ও মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা গেলে দেশের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও শিশুদের সঠিক বিকাশের সঙ্গে জড়িত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  আজ তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দী দিবস।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আয়োজনটি মূলত শিশুদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত এ অনুষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনি নিজেও সেখানে এক খুদে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন। একসময় শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তার ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত স্মারক বোর্ডে নিজের গল্প ও ভাইয়ের লেখা দেখে পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিশুদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে পড়ার কথা বলব না। তোমাদের আজকে বলব তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো বিশেষ গুণ বা প্রতিভা রয়েছে। কেউ ছবি আঁকে, কেউ আবৃত্তি করে, আবার কেউ গান, নাচ কিংবা বাদ্যযন্ত্রে আগ্রহী। নিজের কিবোর্ড ও গিটার শেখার সুপ্ত আগ্রহের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাদ্যযন্ত্র, সংগীত, নাচ কিংবা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত—যে বিষয়ে যার আগ্রহ, সেটি মনোযোগ দিয়ে শেখা ও দক্ষতার সঙ্গে রপ্ত করা উচিত।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক পর্যায়ের ২২ লাখ শিশু—১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে—ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এসব আয়োজন থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নতুন উদ্যমে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। সিলেট থেকে শুরু হয়ে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত এসব আয়োজন শিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি খেলাধুলায়ও দক্ষ করে তুলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি শিশু যাতে সমান সুযোগ পায়, সে জন্য সরকারি স্কুলগুলোতে প্রয়োজনীয় সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ বা ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র কিংবা খেলাধুলার বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশের শিশুদের আরও এগিয়ে নিতে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষার মধ্য থেকে একটি বেছে শেখার সুযোগ পাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে তারা বাড়তি যোগ্যতা অর্জন করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিশুদের মানবিক হতে হবে। দেশের প্রকৃতি, পশুপাখির প্রতিও তাদের দরদী ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

বাড়ি, বিদ্যালয় ও আশপাশের গাছপালার যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পশুপাখির প্রতি সদয় আচরণের অভ্যাস গড়ে তুলে একটি সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণে শিশুদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।