সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি
- আপডেট সময় ০৪:৫২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 7
বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করতে ইউএনডিপি আগ্রহী বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চায় সংস্থাটি। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এ প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি সহায়তা দিতে আগ্রহী।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার প্রসঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড় ধস প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেখানকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সংস্থাটি কাজ করছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করতে চায় সরকার। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইউএনডিপি কাজ করছে বলে জানান আবাসিক প্রতিনিধি। নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনডিপির সহযোগিতার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, এসব কার্যক্রম প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। কোনো ধরনের লঙ্ঘন হলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহও জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। আইনটির সফল বাস্তবায়নে ইউএনডিপি লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে আইনটি পাস হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, সংবাদপত্রের সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সব সময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। বাংলাদেশকে একটি উদার ও ধর্মীয়ভাবে সহনশীল দেশ হিসেবে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















