শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত জামায়াতের লং মার্চ
- আপডেট সময় ০২:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 12
শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি পর্যন্ত ৫ সেপ্টেম্বর লং মার্চ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে সমবেত হয়ে লং মার্চ শুরু হবে এবং রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে চট্টগ্রামের লালদীঘির ঐতিহাসিক ময়দানে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে। পথে অন্তত ছয়-সাতটি পয়েন্টে পথসভা করবেন দলটির নেতারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের জেলা, থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া চাওয়া হচ্ছে। লং মার্চ সফল করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি জানান, কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নয়টি জেলা ও মহানগর শাখার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নয়টি শাখাকে প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব শাখার আমির ও নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবির ও শ্রমিক নেতারাও প্রস্তুতি বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
লং মার্চের বহরে হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। পথে আরও অনেক গাড়ি বহরে যুক্ত হবে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ এতে অংশ নেবেন বলেও তিনি জানান।
কর্মসূচির শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিভাগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যর্থনা, মেডিকেল, পরিবহন, প্রচার ও প্রকাশনা, আইটি, স্বেচ্ছাসেবক, সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক যোগাযোগ বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়ে সমন্বয় সভাও হয়েছে বলে জানান তিনি।
দীর্ঘ সময়ের এই কর্মসূচিতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। লং মার্চ সকাল ৭টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে লালদীঘিতে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, লং মার্চ উপলক্ষে লিফলেট, পোস্টার, স্টিকার, ব্যানার ও ফেস্টুনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও থিম সংয়ের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সড়কের আশপাশের গ্রাম, গঞ্জ ও উপজেলাতেও কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক প্রচার চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-সিলেট রুটের কর্মসূচির শিডিউল পুলিশকে লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছে। সিলেটের রুটে ট্রেনে কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। খুলনার রুট কুষ্টিয়া পর্যন্ত যাওয়ার কথা জানান তিনি।
লং মার্চের বিভিন্ন স্পট ও পথসভার স্থান সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান জামায়াতের এই নেতা। সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয়ভাবে অবহিত করে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে প্রতিটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
লং মার্চকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জনগণের বৈধ ও ন্যায্য দাবি আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই লং মার্চ আয়োজন করা হচ্ছে। এতে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থাকবে না বলেও তিনি জানান।
পুলিশ প্রশাসন, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিতদের কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিএনপি, সরকারি দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিও সহযোগিতা কামনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমানো, গণদাবি বাস্তবায়ন ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে তাদের এই কর্মসূচি। ১১ দলের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও তিনি সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
লং মার্চে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির সম্ভাবনার কথাও স্বীকার করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাবল রোড থাকায় একটি সড়ক দিয়ে লং মার্চ পরিচালনা করে অন্যটি সাধারণ যানবাহনের জন্য খোলা রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে হাজার হাজার গাড়ির বহরের কারণে কোথাও কোথাও যাত্রাবিরতি ও পথসভার সময় সাময়িক যানজট হতে পারে।
এ কারণে আগাম দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের মানুষ, যানবাহনচালক, দোকানদার, ফেরিওয়ালা, রিকশাচালক ও দিনমজুরসহ যাদের সাময়িক অসুবিধা হতে পারে, তাদের কাছে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগাম ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলের ঐক্যের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোর একটি হবে এই লং মার্চ।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ দলটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

























