ষষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০৭:০০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 21
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পর্যায়ে ‘মিড-ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচির কার্যকারিতা যাচাইয়ে দুটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে এসব নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সার্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিয়ে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে বিষয়গুলো উঠে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি এ কর্মসূচির সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদেরও উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার অবশ্যই পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হতে হবে। খাদ্যের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মিড-ডে মিল বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ ও খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ বিবেচনায় নিয়ে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় দুটি পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















