ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড, ১১৬ দিনেই শেষ বিচার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 95

ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহের (৩৫)কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত জরিমানার অর্থ আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ১১৬ দিনের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এটি জেলার বিচারাঙ্গনে আলোচিত একটি নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের শিশুটিকে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান। পরে শিশুটির মৃত্যু ঘটে এবং মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে রাখা হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন  মার্চে ধর্ষণের শিকার ১৬৩, নির্যাতিত ৪৪২ নারী

ঘটনার পরদিন পুলিশ কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে ২৬ মে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৬ জুন মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৭ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন। আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে এ রায় প্রদান করেন।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এটি বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।

এদিকে, নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড, ১১৬ দিনেই শেষ বিচার

আপডেট সময় ০৬:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহের (৩৫)কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত জরিমানার অর্থ আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ১১৬ দিনের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এটি জেলার বিচারাঙ্গনে আলোচিত একটি নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের শিশুটিকে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান। পরে শিশুটির মৃত্যু ঘটে এবং মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে রাখা হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন  সীতাকুণ্ডের সেই ছোট্ট শিশুটির সঙ্গে কী হয়েছিল? ঘাতকের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

ঘটনার পরদিন পুলিশ কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে ২৬ মে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৬ জুন মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৭ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন। আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে এ রায় প্রদান করেন।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এটি বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।

এদিকে, নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।