ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মিথ্যা ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি পেলেন ইমাম, ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / 96

ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দীর্ঘ এক মাসের বেশি জেল খাটা মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক রোমহর্ষক তথ্য— ওই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের জৈবিক পিতা অন্য কেউ নন, বরং তার আপন বড় ভাই। ভাইকে আড়াল করতেই সুপরিকল্পিতভাবে ইমামের ওপর এই অপবাদ চাপিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিস্তারিত থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে ৫ বছর আগে কিশোরী যখন মক্তবে পড়ত, তখন এই শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেছেন।
এই মামলায় ইমাম মোজাফফর এক মাস দুই দিন জেল খাটেন এবং সামাজিকভাবে চরম লাঞ্ছনার শিকার হন। এমনকি তিনি তার চাকরি ও আয়ের উৎসও হারান।

মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে কিশোরীর বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সে নিজের বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে কিশোরী, তার সন্তান এবং ওই ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়।
গত ৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯ শতাংশ নিশ্চিত করা হয় যে, অভিযুক্ত ভাই-ই ওই শিশুটির জৈবিক পিতা।

আরও পড়ুন  সাকিব আল হাসানের সম্পদ জব্দের আদেশ, চেক ডিজঅনার মামলায় চাপে তারকা ক্রিকেটার

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরশুরাম মডেল থানার উপপরিদর্শক শরীফ হোসেন জানিয়েছেন, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি।
তাই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে কিশোরীর আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকৃত অপরাধী ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

কারাভোগ ও সামাজিক মর্যাদাহানির শিকার মোজাফফর আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, “সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়েও আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে আমি জমি বিক্রি করেছি, চাকরি হারিয়েছি।
এখন সত্য সামনে আসায় আমি এই অপমানের সঠিক বিচার চাই।” আইনজীবীদের মতে, ডিএনএ পরীক্ষার মতো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি না থাকলে হয়তো একজন নিরপরাধ মানুষকে সারাজীবন এই অপবাদ বয়ে বেড়াতে হতো।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিথ্যা ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি পেলেন ইমাম, ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণ

আপডেট সময় ১০:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দীর্ঘ এক মাসের বেশি জেল খাটা মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক রোমহর্ষক তথ্য— ওই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের জৈবিক পিতা অন্য কেউ নন, বরং তার আপন বড় ভাই। ভাইকে আড়াল করতেই সুপরিকল্পিতভাবে ইমামের ওপর এই অপবাদ চাপিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিস্তারিত থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে ৫ বছর আগে কিশোরী যখন মক্তবে পড়ত, তখন এই শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেছেন।
এই মামলায় ইমাম মোজাফফর এক মাস দুই দিন জেল খাটেন এবং সামাজিকভাবে চরম লাঞ্ছনার শিকার হন। এমনকি তিনি তার চাকরি ও আয়ের উৎসও হারান।

মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে কিশোরীর বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সে নিজের বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে কিশোরী, তার সন্তান এবং ওই ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়।
গত ৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯ শতাংশ নিশ্চিত করা হয় যে, অভিযুক্ত ভাই-ই ওই শিশুটির জৈবিক পিতা।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত চার্জশিটের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরশুরাম মডেল থানার উপপরিদর্শক শরীফ হোসেন জানিয়েছেন, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি।
তাই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে কিশোরীর আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকৃত অপরাধী ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

কারাভোগ ও সামাজিক মর্যাদাহানির শিকার মোজাফফর আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, “সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়েও আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে আমি জমি বিক্রি করেছি, চাকরি হারিয়েছি।
এখন সত্য সামনে আসায় আমি এই অপমানের সঠিক বিচার চাই।” আইনজীবীদের মতে, ডিএনএ পরীক্ষার মতো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি না থাকলে হয়তো একজন নিরপরাধ মানুষকে সারাজীবন এই অপবাদ বয়ে বেড়াতে হতো।