ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা: আইন কী বলে, শাস্তি কি?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 918

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীর ওপর পুলিশ বা অন্য কোনো ব্যক্তি অকারণে হামলা চালাতে পারে না—এমনটাই বলছে দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধভাবে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিককে বাধা দেওয়া বা শারীরিকভাবে আঘাত করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যার আওতায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ফলে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকারের পরিপন্থী।

আইনবিদরা জানান, এ ধরনের ঘটনায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় স্বেচ্ছায় আঘাত করার অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে। ৩৫২ ধারায় আক্রমণ বা মারধরের জন্য তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান আছে। এছাড়া ৩৪১ ধারায় বেআইনি বাধা দেওয়ার অপরাধে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে। গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে।

আরও পড়ুন  জনগণের বিরুদ্ধে পুলিশকে দাঁড় না করানোর আহ্বান

এদিকে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সরকার পৃথক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, সাংবাদিকের ওপর হামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির ঘটনায় এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত। এমন ঘটনায় ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা: আইন কী বলে, শাস্তি কি?

আপডেট সময় ১১:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীর ওপর পুলিশ বা অন্য কোনো ব্যক্তি অকারণে হামলা চালাতে পারে না—এমনটাই বলছে দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধভাবে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিককে বাধা দেওয়া বা শারীরিকভাবে আঘাত করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যার আওতায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ফলে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকারের পরিপন্থী।

আইনবিদরা জানান, এ ধরনের ঘটনায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় স্বেচ্ছায় আঘাত করার অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে। ৩৫২ ধারায় আক্রমণ বা মারধরের জন্য তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান আছে। এছাড়া ৩৪১ ধারায় বেআইনি বাধা দেওয়ার অপরাধে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে। গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে।

আরও পড়ুন  প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু

এদিকে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সরকার পৃথক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, সাংবাদিকের ওপর হামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির ঘটনায় এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত। এমন ঘটনায় ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।