ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা, রেফারির সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে ওঠা বিতর্কের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটি বলেছে, ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং তাদের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব থাকে না।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনার এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে সংস্থার অবস্থান তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন  সফল ক্লাব বিশ্বকাপ, আমাদের আয় ২৪ হাজার কোটি টাকা: ফিফা সভাপতি

শেষ ষোলোর ওই ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। পরে লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। ম্যাচে মিশরের একটি গোল বাতিল এবং একটি সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনায় রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়েরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান ও কয়েকজন খেলোয়াড়। তারা আর্জেন্টিনার পক্ষে ম্যাচ পরিচালনার অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পিয়েরলুইজি কোলিনা। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে এখনো আটটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি রয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে রেফারিংয়ের মান নিয়ে ফিফা সন্তুষ্ট। অল্প সময়ের মধ্যে অনেক ম্যাচ পরিচালনার সময় কিছু বিষয় পরিকল্পনামতো না-ও হতে পারে, তবে সংশ্লিষ্টরা প্রতিটি ম্যাচের পর নিজেদের আরও উন্নত করার চেষ্টা করেন।

রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলের অংশ হলেও ভিত্তিহীন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন কোলিনা। তার ভাষ্য, এমন অভিযোগ অনেক সময় রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, কেউ দাবি করতে পারেন না যে ফিফার রেফারিং কার্যক্রম কোনো ব্যক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়। এমনকি ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন না। ফিফা রেফারিদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয় এবং তাদের সততার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখে।

চলমান টুর্নামেন্টে নির্দিষ্ট কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করা হয় না উল্লেখ করে কোলিনা বলেন, প্রয়োজন হলে নিয়মের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, যাতে ম্যাচ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট থাকে।

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি গোলের আগে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পুরো আক্রমণভাগের বল দখলের ধাপ (অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ) পর্যালোচনা করে। গোলের আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হলে এবং সেটি গোলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হলে ভিএআর রেফারিকে মাঠের পাশের মনিটরে গিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়। এ ক্ষেত্রে ঘটনাটি গোল থেকে কত দূরে ঘটেছে বা কত সময় আগে ঘটেছে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।

কোলিনার ভাষ্য, আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে মিশরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারোয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন, যা ফিফার মূল্যায়নে ফাউল। রেফারি ঘটনাটি সরাসরি না দেখলেও ভিএআর প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করার পর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। ম্যাচের শেষ দিকে মোহামেদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে হওয়া সংস্পর্শকে রেফারি এবং ভিএআর উভয়েই স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তার মতে, কিছু সিদ্ধান্তে বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই নীতির ধারাবাহিক প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা, রেফারির সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা

আপডেট সময় ০১:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে ওঠা বিতর্কের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটি বলেছে, ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং তাদের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব থাকে না।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনার এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে সংস্থার অবস্থান তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন  সফল ক্লাব বিশ্বকাপ, আমাদের আয় ২৪ হাজার কোটি টাকা: ফিফা সভাপতি

শেষ ষোলোর ওই ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। পরে লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। ম্যাচে মিশরের একটি গোল বাতিল এবং একটি সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনায় রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়েরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান ও কয়েকজন খেলোয়াড়। তারা আর্জেন্টিনার পক্ষে ম্যাচ পরিচালনার অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পিয়েরলুইজি কোলিনা। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে এখনো আটটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি রয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে রেফারিংয়ের মান নিয়ে ফিফা সন্তুষ্ট। অল্প সময়ের মধ্যে অনেক ম্যাচ পরিচালনার সময় কিছু বিষয় পরিকল্পনামতো না-ও হতে পারে, তবে সংশ্লিষ্টরা প্রতিটি ম্যাচের পর নিজেদের আরও উন্নত করার চেষ্টা করেন।

রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলের অংশ হলেও ভিত্তিহীন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন কোলিনা। তার ভাষ্য, এমন অভিযোগ অনেক সময় রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, কেউ দাবি করতে পারেন না যে ফিফার রেফারিং কার্যক্রম কোনো ব্যক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়। এমনকি ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন না। ফিফা রেফারিদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয় এবং তাদের সততার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখে।

চলমান টুর্নামেন্টে নির্দিষ্ট কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করা হয় না উল্লেখ করে কোলিনা বলেন, প্রয়োজন হলে নিয়মের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, যাতে ম্যাচ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট থাকে।

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি গোলের আগে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পুরো আক্রমণভাগের বল দখলের ধাপ (অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ) পর্যালোচনা করে। গোলের আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হলে এবং সেটি গোলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হলে ভিএআর রেফারিকে মাঠের পাশের মনিটরে গিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়। এ ক্ষেত্রে ঘটনাটি গোল থেকে কত দূরে ঘটেছে বা কত সময় আগে ঘটেছে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।

কোলিনার ভাষ্য, আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে মিশরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারোয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন, যা ফিফার মূল্যায়নে ফাউল। রেফারি ঘটনাটি সরাসরি না দেখলেও ভিএআর প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করার পর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। ম্যাচের শেষ দিকে মোহামেদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে হওয়া সংস্পর্শকে রেফারি এবং ভিএআর উভয়েই স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তার মতে, কিছু সিদ্ধান্তে বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই নীতির ধারাবাহিক প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট।