ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 77

ছবি সংগৃহীত

 

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ম্যারাডোনার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ আর্জেন্টিনার একটি আদালতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছেন যে, এই ফুটবল মহানায়ক ‘বাইপোলার ডিজঅর্ডার’ ও ‘নার্সিসিজম’ নামক দুটি গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

গত শুক্রবার (১ মে) ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সাতজন চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানিতে এই তথ্য জানানো হয়।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। এর কিছুদিন আগে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছিল। তার মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আর্জেন্টিনার আদালত।

মনোবিদ কার্লোস দিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ম্যারাডোনার চিকিৎসায় ভুল ওষুধ প্রয়োগ করেছেন। তবে দিয়াজ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে তার মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন।

শুনানিতে দিয়াজ উল্লেখ করেন, ম্যারাডোনা আবেগ ও মানসিক অবস্থার বিপরীতমুখী পরিবর্তনের রোগ ‘বাইপোলার ডিজঅর্ডার’ এবং সর্বদা নিজের প্রতি মুগ্ধ থাকার প্রবণতা ‘নার্সিসিজমে’ আক্রান্ত ছিলেন।

দিয়াজের মতে, ফুটবল জাদুর মাধ্যমে একটি দেশকে আপ্লুত করার ক্ষমতা থাকলেও অ্যালকোহল ও মাদকের আসক্তি ছিল তার বড় দুর্বলতা। তিনি বলেন, “ম্যারাডোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনার জন্য এক গ্লাস অ্যালকোহলই যথেষ্ট ছিল।”

তবে অভিযুক্ত এই মনোবিদ আদালতের কাছে দাবি করেন যে, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা তার জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে চেয়েছিলেন।
দিয়াজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের টানা ২৩ দিন ফুটবল ঈশ্বর কোনো প্রকার মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণ করেননি। মাদকাসক্তি ছেড়ে দিয়ে একটি সুস্থ জীবনে ফেরার চেষ্টা চলাকালীনই তার মৃত্যু ঘটে।

আদালতে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের নজর কেড়েছে। ম্যারাডোনার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলা হলেও অভিযুক্ত চিকিৎসকরা তাদের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপন করে চলেছেন।
আদালতের এই বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকার মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কোনো অবহেলা ছিল কি না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় ১২:২৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

 

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ম্যারাডোনার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ আর্জেন্টিনার একটি আদালতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছেন যে, এই ফুটবল মহানায়ক ‘বাইপোলার ডিজঅর্ডার’ ও ‘নার্সিসিজম’ নামক দুটি গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

গত শুক্রবার (১ মে) ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সাতজন চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানিতে এই তথ্য জানানো হয়।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। এর কিছুদিন আগে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছিল। তার মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আর্জেন্টিনার আদালত।

মনোবিদ কার্লোস দিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ম্যারাডোনার চিকিৎসায় ভুল ওষুধ প্রয়োগ করেছেন। তবে দিয়াজ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে তার মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন।

শুনানিতে দিয়াজ উল্লেখ করেন, ম্যারাডোনা আবেগ ও মানসিক অবস্থার বিপরীতমুখী পরিবর্তনের রোগ ‘বাইপোলার ডিজঅর্ডার’ এবং সর্বদা নিজের প্রতি মুগ্ধ থাকার প্রবণতা ‘নার্সিসিজমে’ আক্রান্ত ছিলেন।

দিয়াজের মতে, ফুটবল জাদুর মাধ্যমে একটি দেশকে আপ্লুত করার ক্ষমতা থাকলেও অ্যালকোহল ও মাদকের আসক্তি ছিল তার বড় দুর্বলতা। তিনি বলেন, “ম্যারাডোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনার জন্য এক গ্লাস অ্যালকোহলই যথেষ্ট ছিল।”

তবে অভিযুক্ত এই মনোবিদ আদালতের কাছে দাবি করেন যে, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা তার জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে চেয়েছিলেন।
দিয়াজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের টানা ২৩ দিন ফুটবল ঈশ্বর কোনো প্রকার মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণ করেননি। মাদকাসক্তি ছেড়ে দিয়ে একটি সুস্থ জীবনে ফেরার চেষ্টা চলাকালীনই তার মৃত্যু ঘটে।

আদালতে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের নজর কেড়েছে। ম্যারাডোনার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলা হলেও অভিযুক্ত চিকিৎসকরা তাদের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপন করে চলেছেন।
আদালতের এই বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকার মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কোনো অবহেলা ছিল কি না।