ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

ক্রিকেট বিশ্ব এখন স্যামসন-বন্দনায়: কেরালার শান্ত ছেলেটি যেভাবে হয়ে উঠলেন বিশ্বসেরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / 109

ছবি সংগৃহীত

 

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গত রাতে ইতিহাস রচিত হয়েছে। ভারতের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হিসেবে যার নাম আজ কোটি মানুষের মুখে, তিনি হলেন স্যাঞ্জু স্যামসন। আসর জুড়ে ৫ ইনিংসে ৩২১ রান করে ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা আর ধৈর্য থাকলে রূপকথাকেও হার মানানো সম্ভব।

সমুদ্রতীর থেকে ক্রিকেট পিচ: ১১ নভেম্বর ১৯৯৪ সালে কেরালার তিরুবনন্তপুরমের এক খ্রিষ্টান পরিবারে স্যাঞ্জুর জন্ম। তার বাবা স্যামসন বিশ্বনাথ ছিলেন দিল্লি পুলিশের একজন কনস্টেবল এবং ফুটবলার। বাবার চাকরির সূত্রে স্যাঞ্জুর শৈশব কেটেছে দিল্লিতে। তবে ক্রিকেটের প্রতি তীব্র টানের কারণে পরবর্তীতে কেরালায় ফিরে আসেন তিনি। বড় ভাই স্যালির স্যামসনও ছিলেন ক্রিকেটার, যার হাত ধরেই স্যাঞ্জুর ব্যাটে-বলের লড়াই শুরু।

ক্রিকেটার হিসেবে যাত্রা ও অভিষেক:

খুব অল্প বয়সেই কেরালার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন স্যাঞ্জু। ২০১১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে কেরালা দলের হয়ে তার রঞ্জি অভিষেক হয়। ২০১৩ সালের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলার সুযোগ পান এবং সেই আসরের ‘সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়’ নির্বাচিত হন। তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হলেও অনিয়মিত সুযোগ আর ধারাবাহিকতার অভাবে দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।
সেরা পারফরম্যান্স ও ২৬ বিশ্বকাপের ‘ম্যাজিক’
২০২৬ সালের এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছিল স্যাঞ্জুর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। টুর্নামেন্টের মাঝপথে একাদশে জায়গা পেলেও তিনি খেলেছেন দানবীয় মেজাজে।

২০২৬ টি টোয়েন্টি ফাইনালের বীরত্ব: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে ৪৬ বলে ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস।
* বিরাট রেকর্ড: এক আসরে ৩২১ রান করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন বিরাট কোহলির ২০১৪ সালের ৩১৯ রানের রেকর্ড।
* প্রভাব: তার ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেট প্রতিপক্ষের বোলারদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল।

 

ব্যক্তিগত জীবন ও সাদামাটা মানুষ:

মাঠের বাইরে স্যাঞ্জু স্যামসন তার শান্ত ও মার্জিত স্বভাবের জন্য পরিচিত। ২০১৮ সালে তিনি তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী চারুলতা রমেশকে বিয়ে করেন। চারুলতা ছিলেন তার কলেজের সহপাঠী। অত্যন্ত ধার্মিক ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার কেরালার ভয়াবহ বন্যার সময় গোপনে বড় অংকের অনুদান দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্রিকেট বিশ্ব এখন স্যামসন-বন্দনায়: কেরালার শান্ত ছেলেটি যেভাবে হয়ে উঠলেন বিশ্বসেরা

আপডেট সময় ০২:১১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

 

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গত রাতে ইতিহাস রচিত হয়েছে। ভারতের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হিসেবে যার নাম আজ কোটি মানুষের মুখে, তিনি হলেন স্যাঞ্জু স্যামসন। আসর জুড়ে ৫ ইনিংসে ৩২১ রান করে ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা আর ধৈর্য থাকলে রূপকথাকেও হার মানানো সম্ভব।

সমুদ্রতীর থেকে ক্রিকেট পিচ: ১১ নভেম্বর ১৯৯৪ সালে কেরালার তিরুবনন্তপুরমের এক খ্রিষ্টান পরিবারে স্যাঞ্জুর জন্ম। তার বাবা স্যামসন বিশ্বনাথ ছিলেন দিল্লি পুলিশের একজন কনস্টেবল এবং ফুটবলার। বাবার চাকরির সূত্রে স্যাঞ্জুর শৈশব কেটেছে দিল্লিতে। তবে ক্রিকেটের প্রতি তীব্র টানের কারণে পরবর্তীতে কেরালায় ফিরে আসেন তিনি। বড় ভাই স্যালির স্যামসনও ছিলেন ক্রিকেটার, যার হাত ধরেই স্যাঞ্জুর ব্যাটে-বলের লড়াই শুরু।

ক্রিকেটার হিসেবে যাত্রা ও অভিষেক:

খুব অল্প বয়সেই কেরালার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন স্যাঞ্জু। ২০১১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে কেরালা দলের হয়ে তার রঞ্জি অভিষেক হয়। ২০১৩ সালের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলার সুযোগ পান এবং সেই আসরের ‘সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়’ নির্বাচিত হন। তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হলেও অনিয়মিত সুযোগ আর ধারাবাহিকতার অভাবে দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।
সেরা পারফরম্যান্স ও ২৬ বিশ্বকাপের ‘ম্যাজিক’
২০২৬ সালের এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছিল স্যাঞ্জুর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। টুর্নামেন্টের মাঝপথে একাদশে জায়গা পেলেও তিনি খেলেছেন দানবীয় মেজাজে।

২০২৬ টি টোয়েন্টি ফাইনালের বীরত্ব: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে ৪৬ বলে ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস।
* বিরাট রেকর্ড: এক আসরে ৩২১ রান করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন বিরাট কোহলির ২০১৪ সালের ৩১৯ রানের রেকর্ড।
* প্রভাব: তার ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেট প্রতিপক্ষের বোলারদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল।

 

ব্যক্তিগত জীবন ও সাদামাটা মানুষ:

মাঠের বাইরে স্যাঞ্জু স্যামসন তার শান্ত ও মার্জিত স্বভাবের জন্য পরিচিত। ২০১৮ সালে তিনি তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী চারুলতা রমেশকে বিয়ে করেন। চারুলতা ছিলেন তার কলেজের সহপাঠী। অত্যন্ত ধার্মিক ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার কেরালার ভয়াবহ বন্যার সময় গোপনে বড় অংকের অনুদান দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছিলেন।