আজ দেবীর বোধন, কাল থেকে শুরু দুর্গোৎসব
- আপডেট সময় ১০:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 31
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে শুক্রবার। মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী দুর্গার বোধন ও পূজা-অর্চনা। এর আগে বৃহস্পতিবার দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কারিগররা। এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর পাশাপাশি পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি অনুদানও বাড়ানো হয়েছে।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনি ও রোববার পালিত হবে মহাসপ্তমী। এদিন নবপত্রিকা স্নান ও পূজার প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হবে। দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদ একত্র করে স্নান করানোর মধ্য দিয়ে এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
সোমবার পালিত হবে মহাঅষ্টমী। দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হবে এদিন। অষ্টমী তিথির শেষ ও নবমী তিথির শুরুর সন্ধিক্ষণে এ পূজা সম্পন্ন করা হয়।
মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উৎসবের শেষ পর্যায় শুরু হবে। এদিন দেবীকে ভোগ নিবেদন করবেন পূজারিরা। পরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব। এর মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসবেন। পূজা শেষে নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন তিনি।
দুর্গোৎসব সামনে রেখে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কারিগররা। প্রতিমায় রং করা, সাজসজ্জা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত শেষ করতে চলছে প্রস্তুতি। পূজা শুরু হওয়ার আগে মণ্ডপগুলো সাজিয়ে তোলার কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করেছে সরকার। সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবারের ছুটির সঙ্গে এই ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন সংশ্লিষ্টরা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে দুর্গোৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য গভীর। অসুররাজ মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়কে স্মরণ করে এ উৎসব পালন করা হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে এটি অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুর এমন এক বর লাভ করেছিলেন, যার ফলে কোনো পুরুষের হাতে তার মৃত্যু সম্ভব ছিল না। এই ক্ষমতার বলে তিনি দেবতাদের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন। পরে দেবতাদের সম্মিলিত ঐশ্বরিক শক্তিতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত ও বধ করেন।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপন করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। মহালয়াকে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এ উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা বহন করে।
এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরকারি অনুদান বৃদ্ধি এবং ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৫০০টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


























