পদত্যাগে নারাজ মমতা, বিকল্প পথে ৩৫৬ ধারা জারির আশঙ্কা
- আপডেট সময় ০৫:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / 115
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় সত্ত্বেও পরাজয় মেনে নিতে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অনড় অবস্থানের কারণে রাজ্যটিতে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয় সময় রাত ১২টায় বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। কিন্তু বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য রাজ্যে ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজ্ঞরা।
ভারতীয় গণমাধ্যম ও আইনি বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সংসদীয় রীতি অনুসারে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তিনি কেবল ‘কেয়ারটেকার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ৭ মে রাত ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার আইনি বৈধতা হারাবে বর্তমান মন্ত্রিসভা।
আইনজীবীদের দাবি, তামিলনাড়ুতেও সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে, তবে সেখানে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগ করে কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এমনটি না ঘটায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস নতুন পদক্ষেপ নিতে পারেন। প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্রণোদিত হয়ে পদত্যাগ না করলে রাজ্যপাল নিজেই তার ইস্তফা দাবি করতে পারেন। এরপর শুক্রবার (৮ মে) মধ্যবর্তী সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।
এদিকে, নির্বাচনে জয়ী বিজেপি আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল ইতোমধ্যে নির্বাচিত ২৯৩ জন বিধায়কের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এক ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভারতে এমন নজির নেই যেখানে পরাজয়ের পর কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে শুক্রবার রাজ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি রাষ্ট্রপতির অধীনে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

























