ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

শহীদের আত্মত্যাগ কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র বিনির্মাণে ঐক্যের ডাক ড. আলী রীয়াজের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 206

ছবি সংগৃহীত

 

দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরমভাবে দুর্বল করে ফেলেছে এ মন্তব্য করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথ খুঁজে বের করতে হবে।” তিনি বলেন, এই কাজ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সংসদ ভবনের এলডি হলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে এক বৈঠকের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন  জাতীয় সনদ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করবে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

ড. আলী রীয়াজ আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদ শুধু গণতন্ত্র নয়, রাষ্ট্রের সব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এখন গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জাতীয় সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কেবল সরকারের আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক দল ও জনগণের সম্মিলিত চিন্তার ফসল হওয়া উচিত। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করলে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।”

তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক সমাজে মতবিরোধ থাকতেই পারে, তবে লক্ষ্য এক—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এই প্রক্রিয়ায় সবার ঐক্যের ওপরই নির্ভর করবে আমাদের সাফল্য।”

বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “১৬ বছর ধরে মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র, সমাজ ও সংবিধান চাই, যেখানে কেউ শুধু মতাদর্শের কারণে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে কার্যকর হবে। একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কেউ চাইলে স্বৈরাচার হতে না পারে।”

সাইফুল হক আরও বলেন, “বিএনপিসহ অন্যান্য সমমনা দল ইতিমধ্যেই সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে, যা ঐকমত্য কমিশনের কাজ সহজ করে দিয়েছে। আমরা আশা করছি, জুনের শুরুতেই ন্যূনতম ঐকমত্য গড়ে উঠবে। অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি না করে অন্তত ন্যূনতম ঐক্য গড়ে তোলার দিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদের আত্মত্যাগ কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র বিনির্মাণে ঐক্যের ডাক ড. আলী রীয়াজের

আপডেট সময় ১২:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

 

দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরমভাবে দুর্বল করে ফেলেছে এ মন্তব্য করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথ খুঁজে বের করতে হবে।” তিনি বলেন, এই কাজ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সংসদ ভবনের এলডি হলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে এক বৈঠকের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন  ঐকমত্যের ভিত্তিতে সনদ তৈরিতে সবাইকে ছাড় দিতে হবে: ড. আলী রীয়াজ

ড. আলী রীয়াজ আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদ শুধু গণতন্ত্র নয়, রাষ্ট্রের সব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এখন গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জাতীয় সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কেবল সরকারের আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক দল ও জনগণের সম্মিলিত চিন্তার ফসল হওয়া উচিত। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করলে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।”

তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক সমাজে মতবিরোধ থাকতেই পারে, তবে লক্ষ্য এক—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এই প্রক্রিয়ায় সবার ঐক্যের ওপরই নির্ভর করবে আমাদের সাফল্য।”

বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “১৬ বছর ধরে মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র, সমাজ ও সংবিধান চাই, যেখানে কেউ শুধু মতাদর্শের কারণে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে কার্যকর হবে। একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কেউ চাইলে স্বৈরাচার হতে না পারে।”

সাইফুল হক আরও বলেন, “বিএনপিসহ অন্যান্য সমমনা দল ইতিমধ্যেই সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে, যা ঐকমত্য কমিশনের কাজ সহজ করে দিয়েছে। আমরা আশা করছি, জুনের শুরুতেই ন্যূনতম ঐকমত্য গড়ে উঠবে। অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি না করে অন্তত ন্যূনতম ঐক্য গড়ে তোলার দিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।