নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১২:২১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 15
সবার জন্য নিরাপদ, টেকসই, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আবাসন বলতে শুধু একটি ঘরকে বোঝায় না; নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ পরিবেশও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।
দেশের শহর, বন্দর ও নগর এলাকায় মানুষের বসতি ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য শহরেও স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে।
এ অবস্থায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতার কারণে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের বাসস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলা সম্ভব হলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জনও সহজ হবে।
শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি বলেন, রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বাসযোগ্য আবাসন তৈরিতে পরিবেশ সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলা এবং বিশেষ করে সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ এবং নির্ধারিত অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের জন্য একটি বাস্তবতায় পরিণত হবে।























