প্রবীণদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
- আপডেট সময় ০২:৩৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 22
মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো নতুন বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এবার আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি : রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’। প্রতিপাদ্যটি সময়োপযোগী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন,
চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। এর ফলে প্রায় সব দেশেই প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘায়ুর এই নতুন বাস্তবতা প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের কাঠামোকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। বার্ধক্য মানুষের জীবনের স্বাভাবিক একটি পর্যায় হওয়ায় প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এর অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে সরকার ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে ভাতার পরিমাণ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
প্রবীণদের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ প্রবীণদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দেশ গঠনে প্রবীণদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবীণরা শুধু অতীতের স্মৃতি বহনকারী মানুষ নন; তারা সমাজের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথ দেখানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষ। তাদের দীর্ঘদিনের শ্রম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।
তবে প্রবীণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্বাস্থ্যগত অবনতি, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও একাকিত্বের মতো সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রবীণদের কল্যাণে সরকারে পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং পরিবারগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তাদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শনের পাশাপাশি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য নিশ্চিত করাকে সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
বাণীর শেষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব প্রবীণ নাগরিকের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।












