চিকিৎসক-রোগীর নিরাপত্তা অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৭:৩৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 17
চিকিৎসক ও রোগী—উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সচেতন ও সক্রিয় রয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ আয়োজিত ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক হিসেবে তাদের গুরুদায়িত্ব নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রক্ষাও সরকারের দায়িত্ব।
চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৫ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু নিরাপত্তা জোরদার করলেই হবে না, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবেশও উন্নত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসার মান বাড়ানো, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করা এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আক্ষেপ কমবে। মানুষের অসন্তোষের মূল কারণগুলো সমাধান করতে পারলেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ তুলে ড. এম এ মুহিত বলেন, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে নির্বাচনী ইশতেহারে ২০টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। চিকিৎসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছে, যেখানে দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে ছিল। বাস্তবতার ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।
নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; বরং এটি দীর্ঘ কর্মজীবনের সূচনা। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবনিয়োগপ্রাপ্তরা একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডারিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শুরু থেকেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও গবেষণামুখী করার ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার আধুনিক ‘ডিজিটাল হেলথ’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। আগামী কয়েক দশক জনগণকে আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার নেতৃত্ব নবীন চিকিৎসকদেরই দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেনসহ অন্যরা।























