ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক করতে ২৫ প্রকল্প স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত

দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এসব প্রকল্পের মাধ্যমে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, কারা অধিদফতর, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের মধ্যে থানা ও পুলিশ স্থাপনা নির্মাণ, সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানো, সাইবার অপরাধ তদন্ত, ই-পাসপোর্ট, মাদকাসক্তি নিরাময়, কারাগার আধুনিকায়ন এবং নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণের মতো কাজ রয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়

পুলিশে বড় বিনিয়োগ

দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ভবন ও ব্যারাক নির্মাণের একটি বড় প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ স্থাপনা, পর্যটন পুলিশ কেন্দ্র ও হাইওয়ে পুলিশ স্টেশন নির্মাণে আরও ৭ হাজার ৭৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতেও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম প্রিভেনশন সেন্টার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সরঞ্জাম কেনার জন্য আলাদা একটি প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্ব

বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধ বাড়ায় এ খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধ তদন্তে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে একটি প্রকল্পে ৫৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড

র‌্যাবের সদর দপ্তর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে ৭৩টি আধুনিক বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

গাজীপুরে ৬৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অবকাঠামো উন্নয়নেও ২ হাজার ২৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের নৌযান ও অন্যান্য সুবিধা বাড়াতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

ই-পাসপোর্ট ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ

ই-পাসপোর্ট এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিক করতে একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এর মাধ্যমে পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও আধুনিক করার পাশাপাশি সীমান্তে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদক নিরাময় ও কারাগার আধুনিকায়ন

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সাত বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কাজও করা হচ্ছে।

কারাগার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্প্রসারণ, জামালপুর ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে।

নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ

ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতেও বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণে ব্যয় হবে ৬৫০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১২টি নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ এবং ৮টি পুনর্নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু ভবন নির্মাণ নয়, সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, ই-পাসপোর্ট, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবা আরও উন্নত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কয়েকটি প্রকল্প ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলো ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে।

সরকার আশা করছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরও ভালো ও দ্রুত সেবা পাবে।

সূত্র: বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক করতে ২৫ প্রকল্প স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

আপডেট সময় ০১:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এসব প্রকল্পের মাধ্যমে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, কারা অধিদফতর, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের মধ্যে থানা ও পুলিশ স্থাপনা নির্মাণ, সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানো, সাইবার অপরাধ তদন্ত, ই-পাসপোর্ট, মাদকাসক্তি নিরাময়, কারাগার আধুনিকায়ন এবং নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণের মতো কাজ রয়েছে।

আরও পড়ুন  তৌহিদুলসহ দুইজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ

পুলিশে বড় বিনিয়োগ

দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ভবন ও ব্যারাক নির্মাণের একটি বড় প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ স্থাপনা, পর্যটন পুলিশ কেন্দ্র ও হাইওয়ে পুলিশ স্টেশন নির্মাণে আরও ৭ হাজার ৭৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতেও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম প্রিভেনশন সেন্টার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সরঞ্জাম কেনার জন্য আলাদা একটি প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্ব

বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধ বাড়ায় এ খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধ তদন্তে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে একটি প্রকল্পে ৫৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড

র‌্যাবের সদর দপ্তর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে ৭৩টি আধুনিক বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

গাজীপুরে ৬৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অবকাঠামো উন্নয়নেও ২ হাজার ২৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের নৌযান ও অন্যান্য সুবিধা বাড়াতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

ই-পাসপোর্ট ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ

ই-পাসপোর্ট এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিক করতে একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এর মাধ্যমে পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও আধুনিক করার পাশাপাশি সীমান্তে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদক নিরাময় ও কারাগার আধুনিকায়ন

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সাত বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কাজও করা হচ্ছে।

কারাগার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্প্রসারণ, জামালপুর ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে।

নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ

ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতেও বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণে ব্যয় হবে ৬৫০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১২টি নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ এবং ৮টি পুনর্নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু ভবন নির্মাণ নয়, সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, ই-পাসপোর্ট, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবা আরও উন্নত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কয়েকটি প্রকল্প ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলো ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে।

সরকার আশা করছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরও ভালো ও দ্রুত সেবা পাবে।

সূত্র: বাসস