ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটুর মৃত্যুদণ্ড বহাল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হাসান তারেক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়ায় স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে, আটক ৫

গত ১১ আগস্ট এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য করা ডেথ রেফারেন্স ও হিটু শেখের করা আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় আছিয়াকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় ১৩ কার্যদিবসে। গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ১৩ মে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

পরে ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন বিচারিক আদালত। তারা হলেন—আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়।

পরে নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য মামলাটি বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।

হাইকোর্টের সোমবারের রায়ের ফলে বিচারিক আদালতে দেওয়া হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটুর মৃত্যুদণ্ড বহাল

আপডেট সময় ০১:৫০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হাসান তারেক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

আরও পড়ুন  ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাচ্ছেন যে তিনজন

গত ১১ আগস্ট এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য করা ডেথ রেফারেন্স ও হিটু শেখের করা আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় আছিয়াকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় ১৩ কার্যদিবসে। গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ১৩ মে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

পরে ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন বিচারিক আদালত। তারা হলেন—আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়।

পরে নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য মামলাটি বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।

হাইকোর্টের সোমবারের রায়ের ফলে বিচারিক আদালতে দেওয়া হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকল।