ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আজ নেপালে নিখোঁজ চার শতাধিক, বন্যার নেপথ্য কারণ জানালেন বিজ্ঞানীরা ফ্যাসিবাদ নির্মূলে নজরুলের গান শিক্ষার্থীদের প্রেরণা জুগিয়েছে: রিজভী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ছয় জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে কাজী নজরুল ছিলেন প্রধান অনুপ্রেরণা: রিজভী আজ লালচে চাঁদ দেখা যাবে যেসব অঞ্চল থেকে নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজদের বড় অংশ বিদেশি পর্যটক মাদারীপুরে পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমা বিস্ফোরণ, ক্ষতিগ্রস্ত টিনশেড ঘর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ তিন বছর পর ‘মহানগর ৩’-এর কাজ শুরুর ইঙ্গিত দিলেন আশফাক নিপুণ

নেপালে নিখোঁজ চার শতাধিক, বন্যার নেপথ্য কারণ জানালেন বিজ্ঞানীরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 28

ছবি সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, আকস্মিক এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে কোনো ভূমিকম্প নয়, বরং পাহাড় ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথে নেমে আসাই মূল কারণ বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকের চিতওয়ান জেলা এবং ২৬ জনের মরদেহ নওয়ালপরাসি ইস্ট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। এসব বিদেশি নাগরিকদের বড় একটি অংশ ভারতীয় বলে জানিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নিখোঁজদের তালিকায় ২৮ জন পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এই দুর্যোগে দেশটির রাসুয়া অঞ্চলের ভোতেকোশি নদীর সংলগ্ন বিপুল সংখ্যক ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ধসে পড়ে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন  ইরানের কারাগারে ইসরায়েলি হামলায় ৭১ জন নিহত, নিখোঁজ বহু বন্দি

এদিকে পর্যটন এলাকা চিতওয়ানসহ নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি পৌরসভায় বন্যার পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকায় পুরো অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ইতোমধ্যেই প্রায় আট টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

দুর্যোগের পরপরই প্রাথমিকভাবে একে কোনো শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাব বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পন তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে জানায়, এই ভূকম্পন শক্তির আসল উৎস ছিল মূলত পাহাড় ধস।

একই ধরনের তথ্য দিয়েছে নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগ। তাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ একযোগে নিচে নেমে এসে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহে হঠাৎ বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি করে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্যের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বর্তমানে পুরো পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো হিমবাহ-হ্রদ ফেটে পানি নেমে এসেছে কি না, নদীর গতিপথে অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়েছিল কি না কিংবা সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ভূমিকা কতটুকু ছিল—এসব সম্ভাব্য দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া সমস্ত আলামত ইঙ্গিত করছে যে পাহাড় ও বরফ ধসের ঘটনার মধ্য দিয়েই এই ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যার সূচনা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে নিখোঁজ চার শতাধিক, বন্যার নেপথ্য কারণ জানালেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০১:৪০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, আকস্মিক এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে কোনো ভূমিকম্প নয়, বরং পাহাড় ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথে নেমে আসাই মূল কারণ বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকের চিতওয়ান জেলা এবং ২৬ জনের মরদেহ নওয়ালপরাসি ইস্ট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। এসব বিদেশি নাগরিকদের বড় একটি অংশ ভারতীয় বলে জানিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নিখোঁজদের তালিকায় ২৮ জন পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এই দুর্যোগে দেশটির রাসুয়া অঞ্চলের ভোতেকোশি নদীর সংলগ্ন বিপুল সংখ্যক ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ধসে পড়ে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন  গাজায় ধ্বং*সস্তূপ থেকে ১৯ লা*শ উদ্ধার, এখনও নি*খোঁজ ৮ হাজারের বেশি

এদিকে পর্যটন এলাকা চিতওয়ানসহ নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি পৌরসভায় বন্যার পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকায় পুরো অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ইতোমধ্যেই প্রায় আট টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

দুর্যোগের পরপরই প্রাথমিকভাবে একে কোনো শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাব বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পন তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে জানায়, এই ভূকম্পন শক্তির আসল উৎস ছিল মূলত পাহাড় ধস।

একই ধরনের তথ্য দিয়েছে নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগ। তাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ একযোগে নিচে নেমে এসে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহে হঠাৎ বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি করে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্যের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বর্তমানে পুরো পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো হিমবাহ-হ্রদ ফেটে পানি নেমে এসেছে কি না, নদীর গতিপথে অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়েছিল কি না কিংবা সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ভূমিকা কতটুকু ছিল—এসব সম্ভাব্য দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া সমস্ত আলামত ইঙ্গিত করছে যে পাহাড় ও বরফ ধসের ঘটনার মধ্য দিয়েই এই ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যার সূচনা হয়েছে।